বিক্ষুব্ধ জনতার রোষ থেকে বাঁচতে আত্মগোপনে যাওয়া লঙ্কান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সরকারি বাসভবন থেকে ১ কোটি ৭৮ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৯ জুলাই) থেকে প্রেসিডেন্ট ভবনে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীরা এই অর্থ উদ্ধার করেছেন।
স্বাধীনতার পর সব থেকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করছে শ্রীলঙ্কা। দেশটি ‘দেউলিয়া’ হয়ে গেছে, বলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে।
দেশের এ অবস্থার জন্য শ্রীলঙ্কা সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে কয়েক মাস ধরে সেখানে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান সরকারের পতন চান। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার পদত্যাগ দাবি করছেন তারা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদত্যাগে রাজি হচ্ছিলেন না।
গোটাবায়ার পদত্যাগের দাবিতে শনিবার শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে। ওই দিন দুপুরে বিক্ষোভকারীরা সব বাধা ভেঙে কলম্বোর ফোর্টে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়ে। নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রেসিডেন্ট গোটাবায়াকে অবশ্য আগেই সেখান থেকে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।
বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের ভবনে ঢুকে পড়ার পর সেখানকার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। সেগুলোতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ভবনের বিছানায় শুয়ে ও আসবাবপত্রের উপর বসে ছবি তুলছেন। কেউ কেউ ভবনের সুইমিংপুলে সাঁতার কাটছেন। কেউ কেউ হলঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তেমন একটি ভিডিওতে দেখা যায় এক বিক্ষোভকারী একটি কক্ষের মেঝেতে বসে বান্ডিল বান্ডিল রুপি গুনছেন। অন্য একজন এসে ক্যামেরার সামনে আরো এক বাণ্ডিল রুপি দেখান।
শ্রীলঙ্কার সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মিরর জানায়, বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ভবনে যে রুপি খুঁজে পেয়েছেন সেগুলো ভবনের নিরাপত্তা ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা রোববারও (১০ জুলাই) প্রেসিডেন্ট ভবন দখল করে আছেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা ভবনটি দখল করে রাখার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।
গোটাবায়া কোথায় আছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তিনি অবশেষে পদত্যাগে ‘রাজি’ হয়েছেন বলে শনিবার রাতে জানিয়েছেন দেশটির স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেইওয়ারদেনা।
বিক্ষোভকারীরা শনিবার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের ব্যক্তিগত বাসভবনেরও দখল নেয় এবং সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা ওই ভবনটিও দখল করে আছে।
শনিবারের ঝড়ের পর রোববার কলম্বো শান্তই আছে। তবে দুই নেতার ভবনের কী অবস্থা বা পুরো নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কেমন আছে শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ তা বোঝার চেষ্টা করছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তদন্তের পর তারা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন বলে জানিয়েছেন।
দেশটির চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল শাভেন্দ্রা সিলভা নাগরিকদের প্রতি দেশের শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ও পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন।