আইনি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধকতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই জেলা পরিষদকে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। সেইসঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মূল বিষয়টি রাজনীতিবিদদের অজানা থাকায় জেলা পরিষদ অকার্যকর রয়েছে।
বুধবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জেলা পরিষদ, সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলা পরিষদদেশের স্থানীয় সরকারের অন্যমত একটি স্তর হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কাজের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক অথবা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যের অথবা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মনোনীত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বারংবার। ফলে হচ্ছে নানা রকম দুর্নীতি ও অনিয়ম।
এ পরিপ্রেক্ষিতে এই সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে উঠতে ক্ষমতার সুষম বণ্টনের প্রয়োজন—এ কথা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জেলা পরিষদকে কার্যকর করতে পরোক্ষ নির্বাচন জরুরি।
তিনি বলেন, ‘৪২ বছর জেলা পরিষদ কার্যকর হয়নি এবং সেখানে আমরা সরকারের সৎ ইচ্ছার অভাব দখতে পেয়েছি। জেলা পরিষদ কার্যকর করারও কোনো উদ্যোগও নেয়া হয়নি। গত সরকারের আমলে প্রশাসনিক করা হলো আর তারাই চালিয়ে গেল ২/৩ বছর।’
জবাবদিহিতা না থাকায় জনপ্রতিনিধিত্বের প্রতিফল ঘটানো সম্ভব হয়নি জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যথাযথ নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকার গঠন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যে কোনো প্রকার জবাবদিহিতা কাঠামো বা পদ্ধতির ঘাটতি। যে কারণে জেলা পরিষদ যেভাবে আছে সম্পূর্ণ অকার্যকরভাবে। আমরা চাই যে জেলা পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হোক এবং সেখানে বাস্তব অর্থে জনপ্রতিনিধিদের প্রতিফলন ঘটুক।’
নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদ প্রশাসকের অস্থায়ী নিয়োগের মেয়াদ ৬ মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথাও বলেন বক্তারা।