বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাম্প্রতিক ‘বঙ্গবন্ধুকে ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলায় বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন সরকারদলের সাংসদেরা।
অধিবেশনে সাংসদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উত্তেজিত কণ্ঠে তারেককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আরে আহাম্মক, লেখাপড়া জানে না। তোর বাপ কি নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিল? তোর বাপ আমাদের ‘স্যার’ বলতে বলতে মুখে লালা বেরিয়ে যেত।
এদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা রুখতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ বক্তব্য দেয়া হচ্ছে বলেও মনে করেন তোফায়েল আহমেদ।
তারেক রহমানের এ বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে—এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আইনমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তারা। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারেকের বিচার দাবি করেন তারা।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘তারেক জিয়া অর্ধশিক্ষিত, খালেদা জিয়া অশিক্ষিত। ইদানীং তারেক জিয়া দুটো বিষয়ে কথা বলছেন। জিয়া প্রথম রাষ্ট্রপতি ও বঙ্গবন্ধু অবৈধ প্রধানমন্ত্রী। এটা রাজনৈতিক আস্ফালন হলে কিছু মনে করতাম না। কিন্তু গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছি। সংবিধানের একটি সেটেলড ইস্যু নিয়ে তিনি কথা বলছেন। দুঃখ হয়, অনেকেই আছেন যারা সংবিধান বোঝেন, আইন ব্যবসা করেন। তারাও গলা মেলাচ্ছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম বলেন, ‘এক অর্বাচীন যুবক ইতিহাসের নতুন ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছে। বিনয়ের সঙ্গে আমি আইনমন্ত্রীকে বলতে চাই, দুনিয়ার কোথায় আছে রাষ্ট্রের জনককে অপমান করা যায়? জাতীয় পতাকার অবমাননা হয় কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না? সংবিধানকে অবলুপ্ত করা হয়, কোনো বিচার হয় না? বার বার রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। মহাত্মা গান্ধীকে অবমাননা করলে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়। মাও সে তুং, কামাল আতাতুর্ককে কেউ অবজ্ঞা করে না। আমরা রামকৃষ্ণ মিশন নিয়ে দেশ চালাতে আসিনি। মানুষ শক্তের ভক্ত নরমের যম—এটা সরকারকে মনে রাখতে হবে।’
রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, খালেদা জিয়া অশিক্ষিত, তার ছেলেও অশিক্ষিত। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাদের উক্তিতে পুরো বাংলাদেশ অবাক। তারেক জিয়া জাতির পিতার সঙ্গে বেয়াদবি করেছেন। জাতির উচিত তাকে ত্যাজ্য করা। তারেক জিয়া আইএসআইয়ের দালাল। হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, তারেক জিয়া যা বলেছে, তা সংবিধানের লঙ্ঘন। ইতিহাস বিকৃতির জন্য তার বিচার হতে হবে। আওয়ামী লীগের সাংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, চোরচোট্টারা বিদেশে বসে চিত্কার করছে। সে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এসব করছে।
গত মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের ওয়েস্ট মিনস্টার সেন্ট্রাল হলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সুশীল সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম অবৈধ প্রধানমন্ত্রী।
তারেক বলেন, শেখ মুজিব প্রেসিডেন্ট, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভাইস প্রেসিডেন্ট সংবিধান গঠিত না হওয়া পর্যন্ত। শেখ মুজিব আসলেন ১০ তারিখে আর ১২ তারিখে প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন— দেশে কোনো সংবিধান নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘সুধী আমরা কী বলতে পারি না শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। শেখ মুজিব প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা বলতে গেলে চাননি। আমরা কী এখন এটাও বলতে পারি না যে, শেখ মুজিব এসে প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন। উনি একজন অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?’