নব প্রভাতের সূর্যের আলোর ছটায় রাজধানীবাসীর বর্ষবরণের অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রায় হলো নতুন বছরের রাজসিক অভিষেক। প্রতিবারের মতো এবারও ভিন্ন প্রেক্ষাপট। জাগ্রত চিত্তে সকল অমঙ্গলের বিরুদ্ধে উদ্যত হতে নির্ভীক পথচলার অঙ্গীকার নির্যাস হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রার পুরোভাগেই ছিল সেসব অনুষঙ্গ। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সববয়সী মানুষ এতে অংশ নিয়ে প্রাণের উৎসবে মেতে উঠেন।
বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার সবচেয়ে বড় প্রাণের উৎসব, বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ বের করে মঙ্গল শোভাযাত্রা। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের শততম জন্মবার্ষিকী স্মরণে এবারের আয়োজন।
‘জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে’ এ মূল সুর, উৎসবের স্লোগান হয়ে ওঠে মঙ্গল শোভাযাত্রায়। মা ও শিশু, হাঁস, লক্ষ্মীপেঁচা, মাছের ঝাঁক, হরিণ শাবক, ময়ূর, চির-সমৃদ্ধির মূর্তিমান রূপক হিসেবে স্বপ্ন দেখায়, যা বাস্তবায়নের পথে ভরসা দেয় চিরায়ত বাংলার লোকচরিত্র- গাজী ও তার বাহন বাঘ।
বাঁধভাঙা আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার্তা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।
আবুল বারাক আলভী, আআমস আরেফিন সিদ্দিকীপুরো শোভাযাত্রা জুড়ে নেচে-গেয়ে প্রাণের উৎসবে মাতোয়ারা সবাই। একই সঙ্গে সকল অমঙ্গলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া।
চারুকলার বকুলতলা থেকে শুরু হয়ে রূপসী বাংলা হোটেলের মোড় ঘুরে টিএসসি চত্বর হয়ে চারুকলায় এসে শেষ হয় বর্ণিল এ আনন্দযাত্রা।