দেশের তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার পাশাপাশি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতিগঠনমূলক কাজে অবদান রাখবে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বৃহস্পতিবার ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে বুধবার এক বাণীতে এ আশা প্রকাশ করেন। ১৯৭১ সালের এদিনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শপথগ্রহণ করে।
তিনি বলেন, বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা। স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দিবসটি উপলক্ষে তিনি দেশবাসী এবং প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ও ভূমিকা অপরিসীম। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ২৬ মার্চ ঘোষিত স্বাধীনতা দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারির মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন।
রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন। তিনি জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান যাঁদের নেতৃত্বে মুজিবনগর সরকার পরিচালিত হয়েছিল তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যাত্রা শুরু করে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাসহ বিশ্ব দরবারে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি, শরণার্থীদের সহায়তা, যুদ্ধবিধস্ত জনগণের পাশে দাঁড়ানোসহ মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনায় নবগঠিত এ সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাষ্ট্রপতি বলেন,মুজিব নগর সরকারের যোগ্য নেতৃত্ব ও দিক নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধ দ্রুত সফল পরিসমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মুজিবনগর সরকার গঠনে যাঁরা সহযোগিতা করেছিলেন তাঁদের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।