তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে ভারতকে বাধ্য করার জন্য সিপিবি ও বাসদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দলগুলোর নেতারা।
তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে রংপুরে এক সমাবেশ এ কথা বলেন বাসদ ও সিপিবির নেতারা।
এ সময় দুদেশের অভিন্ন নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান নেতারা।
সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর আহম্মেদ, বাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামন ভূইয়া ও সিপিবি কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান বক্তব্য রাখেন।
তিস্তার পানির ন্যায্যা পাওনা আদায়ে সকাল পৌনে ১২টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে সিপিবি ও বাসদের হাজার হাজার নেতাকর্মী যাত্রা শুরু করেছেন।
এর আগে সকালে লংমার্চটি লালমনিরহাটের মিশন মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। পরে ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ এলাকার সাধুরবাজারে জনসভা করেন তারা। তিস্তাসহ দুদেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার পর এবার তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ করছে সিপিবি ও বাসদ।
ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার ও সরকারের নতজানু নীতির প্রতিবাদে ঢাকা থেকে তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে লংমার্চ শুরু হয় ১৭ এপ্রিল। গতকাল বগুড়ায় রাত যাপন শেষে শনিবার সকাল ১১টায় তিস্তা মার্চ রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জমায়েত হয়। রংপুরের বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যের পরে দোয়ানীর সাধু বাজারের উদ্দ্যেশে তিস্তা লংমার্চ রংপুর ছাড়ে। পথিমধ্যে রংপুরে ৩টি ও নীলফামারীতে ৪টি সমাবেশ শেষে জনসভায় যোগ দিবে তিস্তা মার্চ।
গতবছর এ সময় ৭ হাজার কিউসেক পানি পাওয়া যেত কিন্তু এবছর পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০০ কিউসেক পানি। ভারত থেকে আসা ৫৪টি নদীর উজানে ভারত একতরফা বাধ দিয়ে বাংলাদেশ মরুকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে। খাদ্য উদ্বৃত্ত এলাকা হিসেবে খ্যাত রংপুর এবং দিনাজপুর অঞ্চল মরুভুমিতে পরিণত হয়েছে । এতে ৪০০ কোটির টাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক এই নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে জনমত সৃষ্টি ও ভারতকে বাধ্য করার জন্য এই কর্মসুচি অব্যাহত থাকবে।