নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) পুনর্গঠন করে মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাগিদ দিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংসদদের হলফনামা জনগণকে জানানোর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন এ কথা তুলে ধরেন বক্তারা।
সংসদ সদস্যদের ২০০৮ সালের হলফ নামার সঙ্গে ২০১৪ সালের হলফ নামা মেলালেই অনেক থলের বেড়াল বেড়িয়ে আসতো বলেও মন্তব্য করা হয়। এছাড়া ৬টি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে রাজনৈতিক দলসমূহ ও নাগরিকদের সম্মতিক্রমে নির্বাচনকালীন একটি 'জাতীয় সনদ' তৈরির কথাও বলেন তারা।
সব সংশয়ের অবসান ঘটিয়ে গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দশম সংসদ নির্বাচন। এতে অংশ নেন ৫৪৩ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে ৩০০ জন সংসদ সদস্য হয়েছেন। আর সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হন ৫০ জন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সংসদ সদস্যরা তাদের হলফনামা জমা দেন। সেইসব হলফনামার বিষয়ে জনগণকে জানাতে রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুজন। এসময় সংসদ সদস্যদের দেয়া তথ্যের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সুজনের সমন্বয়কারী দীলিপ সরকার।
হলফ নামার উপর আলোচনা করতে গিয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ সব হলফনামা দিন দিন হাস্যকর হয়ে উঠছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।
হলফনামায় যারা মিথ্যা তথ্য দেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। এসময় সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশের সাধারণ মানুষের রায়ের বহি:প্রকাশ ঘটেনি। আর বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান সম্ভব নয় যার প্রমাণ উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা।
নির্বাচন কমিশনের মতে একটি প্রতিষ্ঠানের যে সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করা উচিত তা এ কমিশন পারেনি বলেই নতুন কমিশন প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
সুজনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে ৩৫০ জন সাংসদের মধ্যে আইনজীবীর চেয়ে তিন গুণেরও বেশি রয়েছেন ব্যবসায়ী। আইনজীবী রয়েছেন মাত্র ৫১ জন। অন্যদিকে সাংসদদের ৫০ শতাংশই হলেন ব্যবসায়ী। তারা সংখ্যায় ১৭৫ জন।
দশম জাতীয় সংসদে সাংসদদের সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) দেয়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সাংসদদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১২৮ জন সাংসদের (৩৬.৫৭ শতাংশ) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে ১৪৭ জনের (৪২ শতাংশ)। আর ১৫ জনের (৪.২৮শতাংশ) শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিকের নিচে।
সাংসদদের আয় সম্পর্কে সুজন জানায়, ৫৫ জনের (১৫.০৭ শতাংশ) আয় কোটি টাকার ওপরে। ১৭ জনের (৪.৮৫ শতাংশ) আয় দুই লাখ টাকার নিচে। আর নারী সাংসদ বাদে ৩০০ জন সাংসদের মধ্যে মোট করদাতা হলেন ২৫৮ জন। ১০৭ জন সাংসদ পাঁচ হাজার টাকা বা তার চেয়ে কম আয়কর দেন। ৩১ জন সাংসদ ১০ লাখ টাকার ওপরে আয়কর দেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দীলিপ কুমার সরকার। সেখানে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, সাবেক কেবিনেট সচিব আলী ইমাম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।