রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে তবে এখনো জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্তরা পাননি--সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ। রোববার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা উঠে আসে।
সম্মেলনে আরো বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নেয়ার উদ্যোগও পর্যাপ্ত নয়। তাদের দ্রুত পুর্নবাসনের জন্য সরকারের পাশাপাশি পোশাক কারখানার মালিক-ক্রেতাদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ‘যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার টাকা নেই। তাদের দৈনন্দিন জীবনের যা প্রয়োজন, সেগুলো মেটানোরও টাকা তাদের কাছে নেই। যারা কিছু কিছু সাহায্য পেয়েছেন তারা নিজেরাও বুঝতে পারছেন না যে আগামী দিনে কী হবে?’
তবে পঙ্গু শ্রমিকরা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়ে আবার কর্মক্ষম হতে পারেন সে জন্য নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
তিনি আরো বলেন, ‘তাদেরকে চিকিৎসা দিয়ে তাদেরকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা এটা হচ্ছে আমাদের এ মুহূর্তে আমি মনে করি প্রথম দায়িত্ব কর্তব্য।’
এছাড়া, সরকারের পাশাপাশি মালিকপক্ষ ও বিদেশি ক্রেতারা যদি তাদের দায়িত্ব পালন করেন তবে খুব দ্রুত এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে মন্তব্য করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরিন আখতার।
তিনি বলেন, ‘বিজিএইএ ক্ষতাপূরণ হিসেবে কী দিচ্ছেন এ বিষয়টি যদি আমরা সুনির্দিষ্ট না করতে পারি, সব সময় যে এ ঘটনায় সবাই এগিয়ে আসবে সেটা মনে করবারও কোনো কারণ নেই। তারা নাও আসতে পারে ফলে যার যার দায়িত্ব তাকে তাকে নিতে হবে এবং যার যার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব তাকে তাকে নিতে হবে। এ বিষয়টি কিভাবে আমরা ফয়সালা করবো? আমি মনে করি এ প্রশ্নটি আমাদের সুরাহা করা দরকার।’
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে বহুতল ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ে নিহত হয় এবং হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হন আরো অনেকে। আর্তজনের কান্না শুনতে পায় কজন? আর্তজন যদি সন্তান হারানো বাবা হয় তাহলে তার কষ্ট-অসহায়ত্বের মাত্রা আরো বেশি।
রানা প্লাজা ধসের ঘটনা কিছু মানুষের স্বপ্ন আর ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিয়ে গেছে। এদের মধ্যে প্রায় সবাই ছিলেন ভবনটিতে অবস্থিত কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। দেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম ওই ভবন ধসে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের অনেকেই সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন।