লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্ত হয়ে মোগলহাটে এসে ভারতীয় গিদারী নদীটি ধরলা নদীতে মিশেছে। আন্তর্জাতিক নদী শাসন আইন অমান্য করে বাংলাদেশের দুর্গাপুর সীমান্তের ৩০০ গজ দূরে গিদারী নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত। সূত্র বাসস।
বুধবার বাসসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফলে খরস্রোতা গিদারী নদী পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। এই বাঁধ নির্মাণ করায় ধরলা নদীর পানি খুব সহজেই প্রত্যাহার করে নেয়া যাবে। বাঁধের উজানে থাকা ভারতীয় জনগণ এই বাঁধ নির্মাণে বিক্ষুব্ধ হয়েছে। উত্তেজনা এড়াতে লালমনিরহাটের দুর্গাপুর, মোগলহাট ও বনচুকি সীমান্তে বিএসএফ রেড অ্যালাট জারি করে বাঁধটি সার্বক্ষণিক পাহারায় রেখেছে, যাতে করে জনগণ বাঁধটি কেটে দিতে না পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষে তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত সরকার ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ভারতীয় গ্রামবাসীরা বাঁধটি কেটে দিয়ে গণজমায়েতের চেষ্টা চালায়। কিন্তু ভারতীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির কারণে তারা ব্যর্থ হয়।
সীমান্ত গ্রামের বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্ত হয়ে মোগলহাটে এসে ভারতীয় গিদারী নদীটি ধরলা নদীতে মিশেছে। মাঝারি এই গিদারী নদীটি খরস্রোতা নদী। শুষ্ক মৌসুমে সীমান্তের দু'দেশের কৃষক নদীর পানি দিয়ে সেচ সুবিধা পেত। নদীতে এ বছর বাঁধ দেয়ায় বাঁধটির ভাটিতে থাকা কৃষক সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এছাড়াও ধরলা নদীতে পানি প্রবাহ কমে গেছে। গিদারী নদীর একতরফা পানি প্রত্যাহার করার কারণে প্রাকৃতিকভাবে বয়ে যাওয়া স্রোতের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। তাই ধরলা নদীর ডান তীরে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় জারী ধরলা ও বাদুরকুটি গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম (৩৫), সামিনা (৩০), বৃদ্ধ মকবুল হোসেন (৬৫) জানান, শুষ্ক মৌসুমে বিএসএফ জারী ধরলায় ৩টি অস্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণ করেছে। এসব ক্যাম্প গিদালদহ বিএসএফ মেইন ক্যাম্পের অধীনে। দিন-রাত বিএসএফ টহল দিচ্ছে। কাউকে দেখলেই ধাওয়া করছে। বিএসএফর নেতৃত্বে ভারত সরকার জারী ধরলায় গিদারী নদীতে বাঁধ নির্মাণ করেছে। এই বাঁধ নির্মাণ করায় নদীটির স্রোত বা প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বাঁধটি এমন এক জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে তার ৩শ' গজ দূরে বাংলাদেশের সীমান্ত।
দুর্গাপুর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার সামছুল আলম জানান, বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি লালমনিরহাট ৩১ বিজিবি'র অধিনায়ক লে. কর্নেল শফিউল আলম খাঁনকে জানানো হয়েছে। তিনি সরেজমিনে দেখে গেছেন।
বাঁধ নির্মাণ করে প্রাকৃতিভাবে সৃষ্ট নদীর স্রোত বন্ধ করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত সরকার ও বিএসএফ'র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সীমান্তের গ্রামবাসীদের দাবি, ভারতে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে। এই উপলক্ষে সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তে রেড অ্যালাট জারি করেছে তারা। এই ফাঁকে লোকচক্ষুর আঁড়ালে নদীতে বাঁধ দিয়েছে। সীমান্তে বেশ কিছু মাটির রাস্তাও নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। দুর্গাপুর সীমান্তের ভারতীয় জারী ধরলা গ্রামের অধিবাসীরা যারা বাঁধটির উজানে রয়েছে। তারা বাঁধ নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করেছে।
গ্রামবাসীরা জানান, এই বাঁধ নির্মাণের ফলে তাদের কৃষি জমিতে সারাবছর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহ বন্ধ থাকবে। ফলে নদীর পানি ফুলে উঠে নদীর কূলবর্তী অঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিবে। ক্ষতির মুখে পড়বে কয়েক লাখ মানুষ। তাই সীমান্তের গ্রামটিতে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।