অসহায়ের কান্না শুনতে পায় ক’জন? আর তারা যদি হয় মা-বাবা হারা শিশু তাহলে কষ্ট-অসহায়ত্বের মাত্রা হয় অসীম। কিন্তু সেই কান্না শুনতে না পাওয়ার লজ্জাকে দায় হিসেবে নিয়ে কেউ কেউ এগিয়ে আসেন। রানা প্লাজা ভবন ধসে আহত-নিহত পোশাক-শ্রমিকদের সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব নিতে তেমনি এগিয়ে এসেছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। নিজের সন্তানদের মতো তাদের দেখাশোনা করছে তারা।
সাভারের নবীনগরে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম পরিচালিত বালিকা হোম তাদের নিয়ে কাজ করছে। এসব শিশুরা অনাথ বা এতিম নামেই অভিহিত। কিছু বেসরকারি সংস্থার জরিপ অনুযায়ী রানা প্লাজা ধসে প্রায় ৭০০ জন শিশু এদের মতো অনাথ হয়েছে। এসব শিশুদের বেশিরভাগই আত্মীয়-স্বজনদের হেফাজতে কেউ কেউ দত্তক সন্তান হিসেবে কারও কাছে আছে। আবার কারও কারও আশ্রয় জুটেছে অনাথ আশ্রমে।
আশ্রমের ভেতরে গিয়েই দেখা যায় নিজেদের দৈনন্দিন কাজে তারা খুবই ব্যস্ত-চটপটে-প্রাণোচ্ছল। পরস্পরের প্রতি অকৃত্রিম সহযোগিতা। সবাই মিলে একটি পরিবার।
তবে তাদের সঙ্গে আলাপ করতে গিয়েই বদলে গেল পরিবেশ। উচ্ছ্বলতা উধাও। মা-বাবার কথা বলতে গিয়ে সব কষ্ট বেরিয়ে এল কান্নার সুরে চোখের জল হয়ে। একজনের কান্নায় বাদবাকি একাত্ম হয়ে গেল অন্যরাও। সবারই যে একই ধরনের কষ্ঠ। এর মাঝেও ওরা কথা বলেছে।
এসব শিশুদের প্রত্যেকের মা-বাবা রানা প্লাজা ভবন ধসের সময়ে নিহত কিংবা গুরুতর আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছেন নিজেদের সন্তানের মতো করে তাদের দেখাশোনা করার।
রানা প্লাজা দূর্ঘটনা এ শিশুদের জীবন পাল্টে দিয়েছে। তাদের শৈশবের আনন্দ কেড়ে নিয়ে কষ্টের ছকে বেধে দিয়েছে জীবন।