বিভিন্ন সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলোর নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে তিস্তাসহ ভারতের সঙ্গে আভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান। শনিবার রাজধানীতে নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার ওপর এক গোল টেবিল আলোচনা এ কথা বলেন তিনি।
সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ নীতি প্রনয়ন ও আর্ন্তজাতিক ফোরামে আলোচনা ওপর জোর দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এ বিষয়ে ভারতের ওপর চাপ তৈরীর আহ্বান জানান খালেকুজ্জামান।
বাসদ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পানিটা কোথায় যায়, কিভাবে যায় এবং আমার অধিকার কী? আমি কাভাবে বঞ্চিত হচ্ছি ? এ জিনিসটা আপনাদের জানা দরকার । সুতরাং আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমরা এটা আপনাদের অবগত করছি এবং একি সঙ্গে আমরা ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে চেষ্টা করছি এটার সমাধান করা য়ায় কিনা।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে শীতে তিস্তায় পানির প্রবাহ ছিল ১৪ হাজার কিউসেক। ভারত গজলডোবা ব্যারেজে পানি প্রত্যাহার শুরু হলে তা নেমে আসে ৪ হাজার কিউসেকে।
এ সপ্তাহের শুরুতে এর পরিমান ছিল সাড়ে ৩ হাজার কিউসিক আর আগের সপ্তাহে ছিল প্রায় দেড় হাজার কিউসিক। এমনই কিছু পানি পাওয়া গেলেও স্বাভাবিভাবে পাওয়া যাচ্ছে কম-বেশী ৫০০ কিউসেক। যে কারণে তিস্তা পরিণত হয়েছে ধূ ধূ বালি প্রান্তরে। পর্যাপ্ত সেচের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তিস্তা অববাহিকার ফসল।
বিভিন্ন সময় ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হলেও স্বাক্ষরিত হয়নি কোনো চুক্তি। সম্ভাবনা থাকলেও ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির মুখে আটকে যায় চুক্তি স্বাক্ষর।
আর এ পরিস্থিতির জন্য বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতিই দায়ী বলে মনে করেন তিনি। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় না হলে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা পানি বিশেজ্ঞ ড. এস আই খান। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভারত একতরফাভাবে কোনো অবস্থাতে উজানের পানি সরিয়ে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করতে পারে না।’
এ অবস্থায় পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতের ওপর ঐক্যবদ্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরীর গুরুত্ব দেন তিনি।
এসময় পানি বিশেজ্ঞ ম.ইনামুল হক বলেন, ‘আমি তো তিস্তাতে পানি চেয়েছি। আমার তিস্তার পানি সরিয়ে তারা ওখানে নিয়ে গেছে এবং পুরো এলাকাকে মরুভূমি হয়তো না হবে, তবে আমাদের অর্থনীতি কে বিপর্যস্ত করছে, জনগণের জীবনকে বিপর্যস্ত করছে আমরা কি এ ক্ষতিপূরণ চাইবোনা?’