কন্যা সন্তানকে আগে বিয়ে দিলে যৌতুক কম আর দেরিতে বিয়ে দিলে যৌতুক বেশি লাগে বাবা-মার এমন ধারনার কারণে দেশে বাল্য বিয়ের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। দেশে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ হয় রংপুর বিভাগে আর সবচেয়ে কম হয় সিলেটের হবিগঞ্জে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
চারটি বিভাগে পরিচালিত এ সমীক্ষার ফলাফল তুলে ধরতে রাজধানীর মহাখালীতে আইসিডিডিআরবিতে আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য পেলেও এখনো বাল্য বিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি সরকার।
২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজির ৮টি লক্ষ্য অর্জনের জন্য এ ধরনের বিয়ে বন্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কারণ এসব লক্ষ্য অর্জনে এর ভূমিকা রয়েছে।
বাল্যবিবাহ বন্ধে কমিউনিটির ভূমিকা কী? এ নিয়ে আইসিডিডিআরবি রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে সমীক্ষা চালায়। সেমিনারে সমীক্ষা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, বাল্যবিবাহ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নানা রকম ধারনা রয়েছে। আর সমাজে দেরিতে বিয়ে করাকে ভালো চোখে দেখা হয় না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ হয় রংপুর বিভাগে আর সবচেয়ে কম হয় সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জে।
সেমিনারে আলোচকরা বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে সরকারের ভূমিকার পাশাপাশি দরকার সামাজিক সচেতনতা। দুর্বল আইনের কারণে এ ধরনের বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
ইউএসএআইডির ডেপুটি ডিরেক্টর গ্রেগরি এডামস বলেন, ‘বাল্যবিবাহ বন্ধে শুধু সরকারই কাজ করবে এমনটি নয় বরং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড চালানো দরকার। আর বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।’ সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি এ ব্যাপারে গণমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তারা।