সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
চিকিৎসকদের জন্য সরকারের সব ধরনের সহযোগিতায় অব্যাহত থাকবে—এ কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে শপথ আপনারা গ্রহণ করেছেন সেই শপথবাক্য কর্মক্ষেত্রে সরল রেখে সেবা করে যাবেন। রোগীদের সেবা বিশেষ করে শুধু ওষুধ নয় বরং চিকিৎসকের হাতের স্পর্শ ও মুখের দুইটি কথাই অনেক ক্ষেত্রে তার অসুখ ভালো করে দেয়।’
এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর যে চার হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছিল পরবর্তীতের বিএনপি সরকার তা বন্ধ করে দেয়।
তিনি বলেন, ‘বন্ধ করে দেয়ার যুক্তিটা ছিল যে, এ কমিউনিটি ক্লিনিক যদি দেশেব্যাপী চালু হয় তাহলে যারা এখান থেকে সেবা পান তারা শুধুই আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। এ ভয়ে তারা মানুষের এ চিকিৎসা সেবার সুযোগটা কেড়ে নিয়েছিল। যেটা কোনো রাজনীতিবীদ হিসেবে এ ধরনের চিন্তা করাটাও অত্যন্ত অন্যায়।’
বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের দ্বাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চাহিদা মেটাতে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ কলেজ থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত ফেলোর সংখ্যা চার হাজার ১৭৩ জন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সনদপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।
এবারের সমাবর্তনে ৯২৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সনদপত্র গ্রহণ করেছেন। যারমধ্যে ১৬ জন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞকে ফেলোশিপ দেয়া হয়েছে। আর বিশেষ কৃতিত্বের জন্য ৬ জন ফেলো স্বর্ণপদক লাভ করেন। তাদের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।