অপহরণ পরবর্তী নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় শুধু র্যাব নয় স্থানীয় প্রশাসনও জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নিহত নজরুলের স্বজনরা। সুষ্ঠু তদন্ত ও পরবর্তীতে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।
শঙ্কিত নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও। অপহরণ-খুনের পেছনে টাকা লেন-দেনের কথা জোর দিয়ে বলেন নিহত নজরুলের শ্বশুর।
এদিকে, অপহরণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত র্যাব-১১ এর সাবেক কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাইদ মোহাম্মদসহ তিনজনকে অকালীন অবসরে পাঠানো হয়েছে।
তারা হলো: র্যাব কর্মরত সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং নৌ বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম. এম. মাসুদ রানা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সঠিক অভিযোগের ভিত্তিতে অবসরে পাঠানো হয়েছে তাদের। দোষী প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনেই বিচার হবে তাদের। একসঙ্গে সাত জনকে অপহরণ করে হত্যা ছিল নূর হোসেনের চক্রের কিলিং মিশনের, তাতে তারা সফল হয়েছে। তবে এ ঘটনা ঘটানোর আগে শুধু প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামকে হত্যার জন্য ২ মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা বারবার চেষ্টা চালায় কিন্তু ব্যর্থ হয়। এ কথা জানতেন নজরুলের স্বজনরা। নারায়ণগঞ্জের সাংসদ শামীম ওসমানের পরামর্শে দুমাস পালিয়েও ছিলেন নজরুল। সিদ্ধিরগঞ্জের একটি সরকারি কাজ নিয়েই নূর হোসেন ও নজরুলের মূল দ্বন্দ।
নজরুলে স্ত্রী সেলিনা হোসেন বিউটি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। মারামারি করে আবার পাল্টা মামলাও দেয় নূর হোসেন। অবশেষে মেরেও ফেলল।’
এখন টাকা দিয়ে র্যা বের সহায়তায় ওই অপহরণ-খুনের ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ তোলার পর স্থানীয় প্রশাসনেরও তাতে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি নজরুল-পরিবারের। নিরাপত্তাহীতার কারণে তদের বাড়িতে এরমধ্যেই পুলিশ পাহারা দেয়া হয়েছে।
এতোবড় একটা ভয়ঙ্কর কাজ হোসেনের একার হাতে হয়েছে এরসঙ্গে প্রশাসন অবশ্যই জড়িত আছে জানিয়েছেন নজরুলের স্ত্রী। সিআইডি –ওসি যাকে তদন্ত দিয়েছে উনি হোসেনের মামা বলে জানান নজরুলের শ্বশুর।
কিভাবে টাকা লেনদেন হয়েছে এবং কারা সম্পৃক্ত তাও সুনির্দিষ্ট করেছেন নজরুলের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সাংসদ শামীম ওসমানের কোনো সংশ্লিষ্টতা এতে নেই।
নজরুলের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান বলেন, ‘শামীম ওসমান বলেছিল তুমি (নজরুল) পালিয়ে থাক। কারণ আমার কোনো ক্ষমতা নেই, ক্ষমতা হলো নূর হোসেনের, তুমি কয়েক মাস পালিয়ে থাক, আমি নতুন এমপি হয়েছি আমার কাছে প্রশাসন নেই। তোমাকে বাঁচাতে আমি পারবো না। তুমি পালিয়ে থাক, এজন্য শামীম ওসমানের নির্দেশে পালিয়ে ছিল।’
সমিতিতে এ টাকা দেয়, আমার ছোট ভাই দিয়েছে, ইয়াসিন হাজী, বাদল কমিশনার এবং রেকর্ডে দেখিছি আবু সুফিয়ান ও নূর আলীও দিয়েছে যৌথভাবে সবাই জড়িত। কিছু ব্যাংক আছে জানি যমুনা ব্যাংক, ডাচ বাংলা, প্রাইমের নামও উঠে এসেছে।
স্বরাস্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, যেসব র্যা ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনেই তাদের বিচার হবে। তবে র্যা ব বিলুপ্ত করার কোনো কারণ নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘তদন্তে যেই দোষী বের হয়ে আসবে, অবশ্যই তাকে শাস্তি পেতে হবে। এটা আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি।
এক মন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে যে অভিযোগ উঠেছে, তদন্তে উঠে আসলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
‘অনেকে অনেক কিছু বলতে পারেন, তবে তদন্ত শেষ না হাওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।’