রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের কারণেই দেশে অপহরণ, গুম, খুনের ঘটনা বাড়ছে –আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা না থাকাকেও এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে –এ অভিযোগ করে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তারা। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অপহরণ, হত্যার ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনার তারা এসব কথা বলেন।
গোলটেবিল আলোচনায় মাহবুব হোসেনের স্ত্রী শারমীন সুলতানা মিনু বলেন, গত ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর স্টেডিয়াম এলাকা থেকে একটি কালো গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্ত হয়ে কোনো সহযোগিতা পায়নি তার পরিবার। ৩ বছরেও মাহবুবের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মিনু বলেন, ‘বাসায় না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়েছে তাকে, না পেয়ে থানায় যাওয়া হয়েছে। এরপর সাধারণ ডাইরি (জিডি) করা হয়। পরে র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যা ব)- ৪ গিয়েও দরখাস্ত করেছি তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাইনি।’
সুজনের তথ্য মতে, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৮২ জন অপহরণ হয়েছেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে —এ কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সরকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা দিতে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যর্থ হয়েছে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার (অব.) ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে আমরা মোটেও ভালো নেই এবং যে তুলনামূলক চিত্র দেখলাম তাতে আগামীতে আরো কী হবে তা বলা যায় না। তার কারণ মনে হচ্ছে, বর্তমানে সরকার আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তেমনি রাজনৈতিকবীদের কাছ থেকেও আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।’
এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এ বাহিনীতে নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পরামর্শ তাদের। আর যারা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি জানান বক্তারা।
সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে সেটা হলো বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি। বিচার নিয়ে আমরা অনেক কিছুই বলছি কিন্তু কোনো কিছুরই বিচার হয় না।’
সুজনের সদস্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘নিজেরাই যদি রক্ষক হয়ে ভক্ষক হন তাহলে তাদেরকে সাধারণ অপরাধের মতোই শাস্তি দিলে এটার সুবিচার হবে না। তাদের জন্য বিশেষ শাস্তির বিধান করে আইন পাস করতে হবে।’
কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘অপরাধীদের বিচার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তির বিধান যদি করে, তাহলে সরকারের সদিচ্ছা প্রকাশ ঘটবে। আর তা যদি না হয় তাহলে দেশের জনগণ ধরে নেবে যে অকার্যকর রাষ্ট্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটবেই।’
দেশ আজ জাতীয় সঙ্কটের মুখে–এ অবস্থায় সুশীল সমাজকেই বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দীন খান।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত রিপোর্ট দেখতে চাই।’