জাতীয়

ডিজিএফআইকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার চায় না সরকার : প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনা

সরকার ডিরেক্টর জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় না বরং একটি সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর সুনাম সমুন্নোত রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিদপ্তর পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন তিনি। সংবিধানের ধারাবিহিকতা রক্ষায় ডিজিএফআইকে সকল হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান এ সময়, আধুনিক গোয়ান্দা সংস্থা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ সংস্থাটির হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রেখে একনিষ্ঠভাবে ডিজিএফআই দেশের জন্য তাদের কাজ অব্যহত রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক যে, অতীতে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আমরা একে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাই না। বরং এর সুনাম অক্ষন্ন রেখে একে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রাখতে ডিজিএফআই’এর অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে।

তিনি ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই’র সদরদপ্তরে ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দরবারে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আকবর হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ডিজিএফআই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সমুন্নত এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মধ্যদিয়ে তার পুরুদ্ধার হওয়া গৌরব ক্রমশঃ আরো বাড়িয়ে তুলতে পারবে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সংস্কৃতি শুরু হয়। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল ও কুক্ষিগত করতে ডিজিএফআইকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আকড়ে রাখার জন্য এ বাহিনীকে ব্যবহার করে এর ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে ভুলন্ঠিত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এ বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট করে দেয়া হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ডিজিএফআই’কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বন্ধ করে এবং এর হারানো গৌরব পূনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। তিনি বলেন, কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এ বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে এ সরকার আবার ক্ষমতায় এসে ডিজিএফআইকে দায়িত্বশীল জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অব্যাহত না থাকলে, দেশ তার কাঙ্খিত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। তিনি বলেন, ১৯৭৫ এর পর সশস্ত্র বাহিনীতে ১৮টি অভ্যূত্থান ঘটে এবং এ জন্য এ বাহিনীকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, এসব অভ্যূত্থানে অনেক অফিসার ও জওয়ান নিহত হয়েছেন। এতে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তান এবং বোন তাদের ভাই হারিয়েছে।

তিনি বলেন, তার দল সব সময়ই অভ্যূত্থান, পাল্টা অভ্যূত্থান ও হত্যাকাণ্ডের বিরোধী এবং দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অক্ষুন্ন রাখতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসকরা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। কিন্তু আমরা কাউকে মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেব না। সূত্র: বাসস - See more at: http://desh.tv/news/details/id/18682#sthash.gR4DyI8O.dpuf

দেশটিভি/এমএ
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ