রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুদ্ধাচার চরম হুমকির মুখে রয়েছে—এর ফলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি বিচারহীনতা ও আইনের যথাযথা প্রয়োগ না হওয়ায় শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। এতে জনগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে টিআইবির আয়োজনে ‘জাতীয় শুদ্ধাচারব্যবস্থা বিশ্লেষণ বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা তুলে ধরা হয়।
সরকার কর্তৃক গৃহীত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল-২০১২ এর প্রেক্ষপটে রাষ্ট্রের ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে গবেষণা চালায় টিআইবি।
প্রতিবেদনে উঠে আসে, জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থার ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তারকারী বিভিন্ন কারণ। এগুলো হলো : রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি, অপর্যাপ্ত সম্পদ, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির বিস্তার ও দুর্নীতির অস্বীকৃতি চর্চার ফলে সৃষ্ট বিচারহীনতার সংস্কৃতি।
এ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে বেশ কিছু সুপারিশ উত্থাপন করা হয় টিআইবির পক্ষ থেকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
১. আইন করে সংসদ বর্জন বন্ধ করা; সাংসদদের আচরণবিধি বিল আইনে রূপান্তর।
২. নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতে কার্যবিধির সংস্কার।
৩. সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ।
৪. সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন, সুশাসন পর্যালোচনা ও সংস্কার কমিশন গঠন।
৫. পুলিশ আইনের সংস্কার; মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ অন্যান্য অপরাধের জন্য পুলিশ সদস্যদের শাস্তি প্রদান।
৬. নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগে যোগ্যতার শর্তাবলী সম্বলিত আইন প্রণয়ন।
৭. জবাবদিহিতা নিশ্চিতে দুদক আইনের সংস্কার।
৮. জাতীয় মানবাধিকার আইনের সংস্কার।
৯. রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতন্ত্রের চর্চা প্রতিষ্ঠা।
১০. নাগরিক সমাজের প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার চর্চা প্রতিষ্ঠা।
১১. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক লাইসেন্স প্রদান পদ্ধতি প্রবর্তন।
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানান টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।