কুমিল্লার হোমনায় সাম্প্রদায়িক হামলা ছিল সুপরিকল্পিত উল্লেখ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশ থেকে বিতাড়িত করতেই একের পর এক হামলা চালাচ্ছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি- এ আশঙ্কা বিশিষ্টজনদের। স্থানীয় জনগণ ও নেতারা ঐকবদ্ধ থাকলে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। একইসঙ্গে এ জাতীয় ঘটনায় রাষ্ট্রযন্ত্রের কঠোর হওয়া প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন বিশিষ্টজনেরা।
গত ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাগশীতারামপুর গ্রামে দুই হিন্দু যুবক মহানবীকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে- এ গুজবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এ বিষয়ে সালিশের সিদ্ধান্ত হয়। তবে সালিশ বসার আগেই হিন্দুদের বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। চলে ভাঙচুর-লুটপাট।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত দেড় হাজার জনের নামে মামলা দায়ের করেন হোমনা থানায়। মাত্র ২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে থানা হাজতে দিন কাটাচ্ছে ওই দুজন হিন্দু যুবক। ঘটনাস্থল ঘুরে এসে মঙ্গলবার সকালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।
তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে এ হামলা করা হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, ‘কতোখানি পরিকল্পনা এবং কতটা মানুষকে কষ্ট দেয়ার একটা মানসিকতা সেখানে দেখা গেছে সেটা খুব দুঃখজনক।’
তাদের মতে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে ঐকবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই এ ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রতিরোধ করা সহজ হবে বলে মনে করেন তারা।
ট্রাস্টি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সারওয়ার আলি ও অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রযন্ত্র খুবই কঠোর অবস্থা নেয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুরু করে এবং জনপ্রতিনিধিরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তবেই এ ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলা ভবিষ্যতে প্রতিহত করা সম্ভব হবে।’
এ ধরনের হামলা বন্ধের প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেয়ার কথাও বলেন তারা।