স্থানীয় সরকার খাত প্রকল্পে মোট বরাদ্দের ৫০% চলে যায় ঘুষে ফলে অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে আলোর মুখ দেখে না অনেক প্রকল্প। রোববার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘স্থানীয় সরকার খাত: প্রশাসনের সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক পরিমাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে থাকে। এছাড়া, প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অবৈধ হস্তক্ষেপ তো রয়েছেই।
টিআইবির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জনগণের মৌলিক সেবা প্রদানকারী খাতগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকারের অন্যতম ভূমিকা পালনের কথা থাকলেও সীমাবদ্ধতা ও দুর্নীতির কারণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয় না। ক্রয় ও উন্নয়নমূলক কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মোট বরাদ্দের ১০% থেকে ১৫% ঘুষ দিতে হয়। প্রকল্প অনুমোদনের পরও ক্ষমতাসীনদের চাপ ও প্রভাবে অনুমোদিত সেই প্রকল্প পরিবর্তন করতে হয়।
পৌরসভার মেয়রের সম্মানী বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে ঘুষ দেওয়া হয় ২০ লাখ টাকা। পৌরসভার পক্ষ থেকে নিরীক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়া হয় ৪০,০০০-৮০,০০০ টাকা। আর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দেয়া হয় ৫০০০- ৭০০০ টাকা। উন্নয়নমূলক কাজ বণ্টন, কার্যাদেশ ও দরপত্র পেতে বরাদ্দের ১০ থেকে ১৫% কমিশন দেয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রকল্পে মোট বরাদ্দের ৫০% চলে যায় ঘুষে।
এ সময় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনমুখী স্থানীয় সরকার গড়ে তোলার লক্ষে কাজ করছে সরকার।
আলোচনায় বক্তব্য দেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ জারিনা রহমান খান, সালাউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান, তোফায়েল আহমেদ, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান।