অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনসহ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিধির বাইরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) দায়িত্ব পালন না করার সিদ্ধান্ত কৌশলগত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। যখনই দরকার হবে, তখনই সরকার র্যাবকে ব্যবহার করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য, বাজার নিয়ন্ত্রণসহ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত আয়োজিত বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
এ বিষয়ে র্যাবের মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, রমজান ও ঈদের সময় কমলাপুর রেল স্টেশন, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন জায়গায় র্যাব টহল দেবে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, আইনে যেভাবে বলা আছে, র্যাব সেভাবেই তার দায়িত্ব পালন করবে। রমজানের সময় প্রতি বছর যেভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এবারও একইভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
র্যাবের মহাপরিচালক সোমবার বলেছিলেন, চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাক্স পাহারা, জমিজমা ও টাকা লেনদেন সংক্রান্ত সমস্যা ও পারিবারিক বিরোধ নিয়ে তারা কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড চালাবে না র্যাব।
এ কথার প্রেক্ষিতে মোখলেছুর রহমান বলেন, দরপত্র বাক্স পাহারা, জমিজমা ও টাকা লেনদেন-সংক্রান্ত সমস্যা এবং পারিবারিক বিরোধ নিয়েও এখন থেকে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে না র্যাব। ইতিমধ্যে র্যাবের প্রত্যেক ব্যাটালিয়নকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, র্যাব নির্ধারিত ৭ মৌলিক কাজের বাইরে বা অন্যকোনো ধরনের বাড়তি কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে না। র্যাবের এ ৭ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সশস্ত্র জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের আটক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিস্ফোরক দ্রব্যসহ সব ধরনের অবৈধ দ্রব্য উদ্ধার, অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সরকারি নির্দেশে যেকোনো অপরাধের তদন্ত করা এবং সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো ধরনের দায়িত্ব পালন করা। কিছুদিন ধরে র্যাবের বিরুদ্ধে গুম-অপহরণসহ নানা ধরনের অভিযোগ আসছে। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় র্যাবের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে র্যাবের মূল কাজের বাইরে অন্যান্য কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ওঠে।
গতকাল র্যাবের পক্ষ থেকে সাতটি মৌলিক কাজের বাইরে বাড়তি কাজে অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়।