বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন।
সামরিক শাসনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থেকে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্রগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন জিয়াউর রহমান। ৩৩ বছরেও সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছে বিএনপি।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৫২ সালে কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৫৩ সালে করাচির ডি. জে কলেজে ভর্তি হন তিনি।
১৯৫৩ সালে জিয়াউর রহমান কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে কমিশন প্রাপ্ত হোন। ১৯৭০-এ চট্রগ্রাম অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব পান।
কেন্দ্র ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র বাঙালীর উপর বর্বর হামলা চালায়। ২৭ মার্চ চট্রগ্রাম বেতার থেকে মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
কেন্দ্র ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাব পান।
কেন্দ্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যার পর সামরিক আইন জারি করে খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন। তিনি জেনারেল জিয়াকে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করেন। ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়।
কেন্দ্র ৭ নভেম্বর কর্ণেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্ত করা হয় তাকে। এরপরই জিয়াউর রহমান রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।
কেন্দ্র এসময়ের পর থেকেই ছোট বড় বেশকটি সামরিক অভ্যুত্থান মোকাবেলা করতে হয় জেনারেল জিয়াকে। এরপরই তিনি মনোযোগ দেন রাজনীতিতে। ১৯৭৮ এর শুরুতে গঠন করেন জাগদল। ওই বছরই সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
কেন্দ্র ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে গভীর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হোন জেনারেল জিয়াউর রহমান। এরপর চট্রগ্রামের কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হলেও কোনো তদন্ত হয়নি। ওই ঘটনার পর বিএনপি দুবার ক্ষমতায় এলেও এ হত্যা মামলা সচল করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।