চীনের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বেড়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে বলেও জানান তিনি। শুক্রবার চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে দ্বিতীয় চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরকে উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এটি বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দ্বার খুলে দেবে।
এদিকে, শেখ হাসিনার এ সফরকে চীন এ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ অর্থবহ হিসেবে দেখছেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের আমন্ত্রণে ৬ দিনের সরকারি সফরে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে কুনমিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানকার চাংশুই বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আজিজুল হক ও ইউনান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর লি চেহাঙ্গ। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
পরে বিকেলে দ্বিতীয় চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের বিশাল বিনিয়োগের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, এতে উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চীনের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, চীনের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চীনকে বাংলাদেশের ভালো বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবেও এ সময় অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে কুনমিংয়ের উদ্দেশে রওয়ানা দেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে ৯ জুন বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শীর্ষ বৈঠকের পর সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের বিষয়টি ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া, ৫-৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জুন।
এদিকে, রোববার প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। বুধবার হংকং হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা।