২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ খাত অগ্রাধিকার পেয়েছে। এরমধ্যে সর্বাধিকার ভিত্তিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্পের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকেও অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
প্রতিবারের বাজেটেই কিছু প্রকল্পকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবারও এর বিপরীত হয়নি।
বর্তমান সরকার পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর ৬টি প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রকল্পগুলো হলো: পদ্মা সেতু, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প , সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল নির্মাণ।
গত ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রকল্পগুলো দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দেশনা অনুসারে এবারের বাজেটে প্রকল্পগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে দেশের অবকাঠামো খাতের সর্ববৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতু।
বুধবার বাজেট অধিবেশনে পদ্মা সেতু নিয়ে আশার বাণী শুনিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে সেতু বিভাগকে ৮ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে এবারের বাজেটে পদ্মা সেতুর পাশাপাশি যেসব প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো: চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রধান প্রধান সড়কগুলো চার লেনে উন্নীতকরণ, রেলখাত সংস্কার ও এর আধুনিকায়ন, ঢাকা মহানগরীকে ঘিরে সার্কুলার রেলপথ নির্মাণ, পটুয়াখালীতে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা নির্মাণ এবং যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।
প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমানোর কথাও বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে রূপপুরে ২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে এ বছর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।