পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে। এছাড়া চট্টগ্রামে চীনের জন্য বিশেষ ইপিজেড নির্মাণসহ ৫টি পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত- মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠায়ও একমত হয়েছে দুই দেশ। সোমবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের চতুর্থ দিনে বেইজিংয়ের মহাগণভবনে শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য-ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত, মিয়ানমার ও চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবেও সম্মত হয় দুদেশ।
বৈঠকের পর পররাষ্ট্রসচিব সাংবাদিকদের বলেন, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও চট্টগ্রামে বিশেষ ইপিজেড নির্মাণসহ দুই দেশের মধ্যে ৫টি চুক্তি, সমঝোতাস্মারক ও নোট অফ এক্সচেঞ্জ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে চীনের অংশীদারিত্ব বিষয়ক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিরো টলারেন্স নীতির কারণেই বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সফল হয়েছে।
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করতে তার দেশের জনগণের লড়াইয়ে চীন আরও সমর্থন ও সহযোগিতা দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চীন সহযোগিতা করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জতিক মানদন্ড অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক ও আধুনিক দেশ গঠনে দুই দেশই পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।
এসময় বাংলাদেশে পড়াশুনায় আগ্রহী চীনের শিক্ষার্থীদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চায়না ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন ফোরামে বক্তব্য রাখবেন। ছয় দিনের সফর শেষে বুধবার বিকেলে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।