মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের নীতি গ্রহণ করেছে সরকার – এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এ কে এম মাইদুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি এবং কোস্টগার্ড নিরলসভাবে কাজ করছে। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবা পাচার রোধকল্পে গত ২৭ অক্টোবরে টেকনাফ উপজেলায় ৯ জন জনবল সম্বলিত একটি নতুন অস্থায়ী সার্কেল অফিস স্থাপন করা হয়েছে। এরইআমধ্যে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে ইয়াবা পাচার বিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারসহ সীমান্ত এলাকাগুলোতে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাচার রোধে বিজিবির সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা, তল্লাশি এবং নজরদারি বৃদ্ধির ফলে সীমান্ত এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং ফেন্সিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য আটক করা হচ্ছে। ফলে মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ হ্রাস পেয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, মাদকদ্রব্য অপব্যবহার ও চোরাচালান রোধকল্পে সীমান্তের সন্দেহজনক বিভিন্ন স্থানে টাস্কফোর্স অপারেশন পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। ভারত সরকার সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ফেন্সিডিল কারখানা স্থাপন না করার নির্দেশ দিয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মহাপরিচালক বিজিবি এবং মহাপরিচালক বিএসএফ পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফ প্রতিনিধির নিকট ফেন্সিডিল তৈরির কারখানার তালিকা সম্বলিত বুকলেট হস্তান্তর করে সেগুলো ধ্বংস করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাংলাদেশের ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলসহ উপকূল হতে সমুদ্রের দিকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত অর্থনৈতিক এলাকা এবং সুন্দরবন এলাকাসহ অভ্যন্তরীণ জলসীমায় নিরাপত্তা প্রদান করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড কক্সবাজার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন্স ও আউটপোস্ট শাহপরীতে ইয়াবা পাচার রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তল্লাশি কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্টে বিজিবি সদস্য ছাড়াও প্রশিক্ষিত কুকুর দ্বারা ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক বিরোধী তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সূত্র: বার্তা সংস্থা বাসস