বিশিষ্ট লেখক, দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম আর নেই। শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। শোষণমুক্ত, জ্ঞানমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন বামপন্থী এ বুদ্ধিজীবী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদদুজ্জামান নূর তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
অনেক দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন শিক্ষাবিদ, দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম। সপ্তাহখানেক আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। চিকিসাধীন অবস্থায় গতরাতে চিরবিদায় নিলেন সবার শ্রদ্ধাভাজন এ মানুষটি।
সরদার ফজলুল করিমের জন্ম ১৯২৫ সালে বরিশালের আটিপাড়ায়। ম্যাট্রিকুলেশন শেষে উচ্চশিক্ষা নিতে ১৯৪০ সালে ঢাকা আসেন। ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতক ও ১৯৪৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এরপর ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্রের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ থেকে ৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই শোষণমুক্ত ও মানবতাবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনকারী সাম্যবাদী বামপন্থী এই লেখক রাজবন্দি হিসেবে দীর্ঘ ১১ বছর কারাভোগ করেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখির সঙ্গে জড়িত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম। তার উল্লেখযোগ্য অনুবাদ ও রচনার মধ্যে প্লেটোর সংলাপ, প্লেটোর রিপাবলিক, অ্যারিস্টটলের পলিটিক্স, এ্যাঙ্গেলসের অ্যান্টি ডুরিং, রুমির আম্মা, ‘সেই সে কাল’ ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পায়।
তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে তার গুণগ্রাহীদের মাঝে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমএম আকাশ সরদার ফজলুল করিমে অসামান্য গুণের কথা স্মরণ করেন।
গভীর আবেগে বাবাকে আলোকিত মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন তার মেয়ে। নতুন প্রজন্মকে বাবার বই পড়ার অনুরোধ জানান তিনি।
সরদার ফজলুল করীমের মরদেহ সকাল ১১টায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নিয়ে বেলা পৌনে ১২টায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাকে রাখা হয়েছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন সরদার ফজলুল করিম।