নিউইয়র্ক সফররত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সম্মানে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হোটেল মেরিয়টে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বলিভিয়া হয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছান। প্রবাসীদের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা এবং সংগঠকদের রাখা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের একাংশ হোটেলে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না যাওয়ার অনুরোধ করে।
এদিকে, সংবর্ধনার বিষয়ে ব্যাপক প্রচারের কারণে আশপাশের অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসীরা গতকাল দুপুর থেকে অনুষ্ঠানে আসতে শুরু করেন। অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি সভায় আসছেন না। সাধারণ প্রবাসীরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর মধ্যে দুই পক্ষই সংবাদ সম্মেলন করে অনুষ্ঠান বাতিলের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রের কারণে প্রবাসীরা নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম থেকে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুনতে পারলেন না। কারণ এ সংবর্ধনা কমিটিতে ছিলেন বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদের প্রতিনিধিরাও।
ড. সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন যে, রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনায় বিএনপিসহ সকলের সম্পৃক্ততা ঘটিয়ে প্রবাসে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছিলাম।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বলেন, দলের কিছু ষড়যন্ত্রকারীর কারণেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিদ্রোহী গ্রুপের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সদস্য জসিমউদ্দিন খান মিঠু।
যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব সময় তত্পর থাকা লোকজনকে সংবর্ধনা কমিটিতে রাখা হয়েছে। বিএনপি নেতা আবদুল লতিফ সম্রাটসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তারা অভিযোগ করে, ‘সর্বজনীন সংবর্ধনার’ নামে রাষ্ট্রপতিকে বিব্রত করার জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গ্রুপ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে ১৭ জুন মঙ্গলবার দুপুরে সিটির জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে
এক সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগ করা হয়, সার্বজনীন সংবর্ধনা কমিটির নামে একাত্তরের চিহ্নিত আলবদর, জামাতের রোকন এবং যারা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ও জাতির পিতাকে মানে না- এমন লোকজনকে রাখা হয়। এছাড়া আরো কিছু লোকের নাম দেয়া হয়েছে যারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
জ্যাকসন হাইটসে করা পাল্টাসংবাদ সম্মেলনে অপর পক্ষ অভিযোগ করে, সম্মানিত রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান দায়ী।
বিরোধে জড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা।
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেনসিলভানিয়া থেকে আসা বাবলু আহমেদ বলেন, নিজেদের মান-সম্মান বিসর্জন দিয়ে যারা প্রবাসে সব সময় দলবাজি করেন, দলীয় পরিচয় দিয়ে ঘুরে বেড়ান, তাদের কারণেই রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি বাতিল হয়েছে।