গত মাসে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গুলিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েব সুবেদার মিজান নিহত হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে এর বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশ। গত ১০ থেকে ১৩ জুন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এ কথা বলেন।
আজিজ বলেন, দুই দেশ সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বর্ডার লিয়াজো অফিস স্থাপনের ব্যাপারে একমত হয়েছে। রেড এলার্ট সত্বেও নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের আসামি নূর হোসেনের পালিয়ে যাওয়া বিজিবির ব্যর্থতা নয়, সীমাবদ্ধতা। মিজান নিহত হওয়ার ঘটনায় মিয়ানমার দুঃখ প্রকাশ করেছে। আর বাংলাদেশ এ হত্যার বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তারা (বিজিপি) পদক্ষেপ নিয়েছে। আর একটি ঘটনা ঘটেছে সেই বিষয়টি তাদের দেখতে হবে।’
এছাড়া, প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের এ বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যে আস্থার সংকট ছিল, সেই মেঘ কাঁটতে শুরু করেছে বলেও জানান বিজিবির মহাপরিচালক।
বর্ডার লিয়াজো অফিস করার ব্যাপারে একমত হয়েছে দুই দেশ— এ কথা উল্লেখ করে আজিজ আহমেদ বলেন, ‘বর্ডার লিঁয়াজো অফিস করে এর মাধ্যমে মিলিতভাবে কাজ করা হবে। তবে আমারা তাদের সব তথ্য দিতে বলেছি এবং তারা কিছু বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আমাদের বলেছে সেটা আমরা নিতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘নিজেদের ভেতর বিশ্বাস, আত্মনির্ভরশীলতা এগুলো তখনি আসবে যখন একজন আরেক জনের কথা রাখবে।’
এছাড়া, ওই বৈঠকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ , মাদক চোরাচালান, মানবপাচার বন্ধ বিষয়ে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে বান্দরবানের নাইক্ষ্যছড়ি থানার পানছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়। পরে জানা যায়, সেই নিখোঁজ ব্যক্তি বিজিবির নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান। এ নিয়ে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে মিজানের মরদেহ ফিরিয়ে আনা হয়।