চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অধিবেশন চলাকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদে উপস্থিত না থেকে বিদেশ সফরে যাওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন সরকারদলীয় জ্যেষ্ঠ সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি হ্যামলেট করবেন আর প্রিন্স অব ডেনমার্ক থাকবে না, তা তো হয় না। মনে রাখবেন, এ সংসদ যদি বাজেট পাস না করে, আপনি এক টাকাও খরচ করতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এসব কথা বলেন।
সুরঞ্জিত সেন বলেন, বাজেট আলোচনা করব অর্থমন্ত্রীর জন্য দেখলাম, তিনি নেই। যিনি প্রধান নায়ক, তিনি থাকবেন না, এটা কখনো হয়? খবর নিয়ে জানলাম, তিনি জেদ্দায় গেছেন ইসলামি ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে। উনি কেন গেলেন? বাজেট দিয়ে কোনো অর্থমন্ত্রী এভাবে বিদেশ যেতে পারেন? আমার জানা নাই। তিনি বলেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রী নাকি বানাইছেন, সেইডাও নাই, প্ল্যানিং মিনিস্টারও নাই।
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, খবর নিলাম ২৩ তারিখে গেছেন, ২৬ তারিখ আসবেন। পারলে তাড়াতাড়ি আসেন। আপনি (স্পিকার) প্রধানমন্ত্রীকে বলতে পারেন। বাজেট দিয়ে অর্থমন্ত্রী যেন দেশের বাইরে না যান—এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
আওয়ামী লীগের সব বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছে, এবারের বাজেটও (২০১৪-১৫) বাস্তবায়িত হবে—দাবি করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সিপিডি ও অর্থনীতি সমিতিসহ বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, জ্ঞান আইছে পশ্চিম থেকে। কী সেটা? ইনক্লুসিভ ইলেকশন, ইনক্লুসিভ ডায়ালগ করতে হবে। ইনক্লুসিভ ডায়ালগ করিনি? বাংলাদেশের সিটিং প্রাইম মিনিস্টার টেলিফোন করলেন, আর বিরোধীদলীয় নেতা বললেন তিনি হরতাল করবেন।
তিনি বলেন, জর্জ ওয়াশিংটন, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কেউ কথা বলে? এটা তাদের ইনক্লুসিভনেস। দুঃখ হয়, এখানে (বাংলাদেশ) জাতির পিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে সুরঞ্জিত সেন বলেন, আপনি পলিটিকস করবেন এক্সক্লুসিভ, আর ডায়ালগ করবেন ইনক্লুসিভ, তা হয় না। ইনক্লুসিভ পথে আসেন। তিনি বলেন, উনার কথা শুধু ‘তত্ত্বাবধায়ক চাই’। উনার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আরেক পণ্ডিত ড. কামাল হোসেন। ইট ইজ এ মেটার অব ফাস্ট।
সুরঞ্জিত সেন বলেন, উনি (খালেদা) আসেন নাই, সিট কি খালি আছে? আপনার ভুলের মাশুল আপনাকেই দিতে হবে। বলেন, আপনি স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না। সংবিধান মানবেন। বলেন ভুল হয়েছে, সংসদে সিট চাই। আমাদের নেত্রী উদার আছেন। আওয়ামী লীগের সিট ছেড়ে আপনাকে নিয়ে আসবেন।
তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ, যেই পাওয়ারের কথা শুনছে, ৬০-৭০ বছরের দাম্পত্য জীবন ছেড়ে চলে আসছে। রাজনীতিতে কেউ কাউরে ছাড়ে না।
সুরঞ্জিত সেন মন্তব্য করেন বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সুশাসন ও আইনের শাসন। বাজেটে ইকোনমিক প্রাইওরিটি দেওয়া হয়েছে, পলিটিক্যাল প্রাইওরটি দিতে হবে। কারণ বাজেটের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন।
সকাল সাড়ে ১০টার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর প্রমুখ আলোচনা করেছেন। সূত্র প্রথম আলো।