বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা দিলেই মিলছে। আর এ অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ জড়িত। দেশের ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর গবেষণা চালিয়ে টিআইবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি স্তরেই দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।
দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৯টি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হাজারের বেশি শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পরিচালিত এমন ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শাখা ক্যাম্পাসের ওপর গবেষণা চালায় টিআইবি। এসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া পর্যন্ত পদে পদে অর্থের অবৈধ লেনদেন রয়েছে বলে টিআইবি গবেষণায় পেয়েছে।
টিআইবি বলছে, উচ্চ শিক্ষায় মোট ৬১% শিক্ষার্থী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। আইনের অস্পষ্টতা ও সুনির্দিষ্ট বিধিমালা ও জবাবদিহিতা না থাকায় বেশরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সবচে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে সরকার একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও কোনও কাজে আসেনি। টিআইবির দাবি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুনাফালোভী অংশ সার্টিফিকেট বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত।
উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়নে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নে বিধিমালা তৈরি, নিয়ম লঙ্ঘনে অপরাধীর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতসহ সরকারের কাছে ১৬ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি।