সময়মতো পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে—জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতু নির্মাণে আর যাতে কোনো বাধা না আসে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে কাজটি শুরু করেছি, তা যেন ভালোভাবে করতে পারি, সে ব্যাপারে নজর রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারলে একটা ব্রিজ বানাতে কেন পারব না?’ বৈদেশিক মুদ্রার অভাব নেই—উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে এখন রিজার্ভ ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তার থেকে এক দুই বিলিয়ন খরচ করলে সমস্যা হবে না।
পদ্মার পাড়ে হংকংয়ের মতো শহর নির্মাণ করা হবে আর সেখানে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার তৈরি করা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মেলা সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু রাস্তা তৈরি করাই নয়, তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচ হয়। কোন রাস্তা কতটুকু ব্যবহার হবে, প্রতি সেকেন্ডে কত গাড়ি চলবে, কতটুকু যানবাহন ধারণ করবে সে হিসেবে প্ল্যান-প্রোগ্রাম তৈরি করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী-এমপিদের বাড়ি থাকলে রাস্তা ঘুরিয়ে নিতে হবে— এ রকম একটি প্রবণতা আছে। অল্প জায়গায় রাস্তা তৈরি হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অনেক সময় তা ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। এ মানসিকতা বাদ দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে অনেক তোলপাড় হয়ে গেল। এটা নিয়ে অন্য উদ্দেশ্য ছিল। কোনো কারণ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট তার শেষ কার্যদিবসে এ দেশের একটি মহলের প্ররোচনায় পদ্মা সেতুর বরাদ্দ বন্ধ করে দেন।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে অভিযোগ করার পর আমরা চ্যালেঞ্জ করলাম। কী দুর্নীতি হয়েছে, তার ডকুমেন্ট চাইলাম। কিন্তু তারা যে কাগজপত্র দেখাল, তা ছিল আগের সরকারের আমলের ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন সড়কের কাজ নিয়ে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওরা অনেক চালাকি করেছে। নানা শর্ত জুড়ে দেয়। একবার বলে অমুক অমুককে বাদ দিতে হবে। আবার বলে এদের অ্যারেস্ট করলে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সব প্রস্তুতি শেষে এর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণে চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। এ কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সেতুর উভয় পাড়ের নদী শাসন কাজের আর্থিক দরপত্রের মূল্যায়ন চলছে।’
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী রোববার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে বৈঠকে এ কথা বলেন। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। সূত্র: বাসস ।