বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের রায় বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার সরকারের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়। আগামীকাল (মঙ্গলবার) রায়ের ব্যাপারে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের মহাপরিচালক সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের রায় সরকারের কাছে এসেছে তবে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিসি আদালত (পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিট্রেশন) এ রায় সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষকে জানিয়েছে। তবে ওই আদালতের বিধি অনুযায়ী তা ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো পক্ষ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারবে না। তাই মঙ্গলবারের আগে এ রায়ের ব্যাপারে জানা যাবে না।
আদালতের কার্যবিধি অনুযায়ী, গত জুন মাসে রায় ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু তা বিলম্বিত হয়।
নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিসি আদালতে ২০১৩ সালের ৯ থেকে ১৮ ডিসেম্বর সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পক্ষে বাংলাদেশ ও ভারত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। শুনানি শেষে আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, কার্যবিধির ১৫ ধারা অনুযায়ী, ছয় মাস পর এই দুই নিকট প্রতিবেশীর সমুদ্রসীমা নির্ধারণের রায় দেয়া হবে।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর সালিসি আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ জার্মানির হামবুর্গভিত্তিক সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে (ইটলস) মামলা করেছিল। আর ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের মামলা করেছিল স্থায়ী সালিসি আদালতে। ২০১২ সালের ১৫ মার্চ ইটলস বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেয়।