একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে দেশের জনসংখ্যা তিনগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৪৩ লাখ আর ২০১৪ সালে জনসংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়েছে। জনসংখ্যার এ ক্রমবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাই এ বিষয়ে এখনই যথাযথ মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
এ অবস্থায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘তারুণ্যে বিনিয়োগ, আগামীর উন্নয়ন’। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রথম আদমশুমারিতে পদ্মা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্র বিধৌত এই সমতলে জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২ কোটি ৮৯ লাখ।
পরের হিসেব শুধু এগিয়ে যাওয়ার। পঞ্চাশ বছরে জনসংখ্যা বাড়লো দ্বিগুণেরও বেশি। ১৯৫১ সালে পাকিস্তান সরকারের করা শুমারিতে দেশের জনসংখ্যা ৪ কোটি ১৯ লাখ। আর একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ২০০১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দাঁড়ালো ১২ কোটি ৪৩ লাখ, ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৮৪২। জনসংখ্যা বাড়লো প্রায় তিনগুণ ।পরিসংখ্যান ব্যুরোর সবশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী ২০১১ সালে জনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪ কোটি ৯৭ লাখ এবং ঘনত্ব এক হাজার পনেরো। ২০১৪ সালে জনসংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়েছে।
বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির যে হার তাকে স্থিতিশীল ধরলে ২১০০ সাল নাগাদ জনসংখ্যা হবে ৩০ কোটি। সে অনুযায়ী প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করবে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সামনে অপেক্ষা করছে এখনই তার প্রতি যথাযথ মনোযোগ না দিলে গভীর সঙ্কটে পড়বে দেশ,এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
এমন বাস্তবতা সামনে রেখে অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও পালন করা হচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। সকালে এ উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা সংস্থা।
পরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি নির্ভর তারুণ্যের উন্নয়নই প্রাধান্য পাবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জনসংখ্যা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, সেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং এফপি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।