বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শুরুর আগেই শেখ হাসিনার হাতে ওয়ার্ল্ড গার্ল সামিট চার্টার তুলে দেন ডেভিড ক্যামেরন।
ক্যামেরনের সঙ্গে এ বৈঠকটিই এখন প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছেন প্রধামন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ব্রিটিশ সরকার যে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিল তা থেকে সরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক হয়ে উঠেছে সেটাই এ বৈঠক প্রমাণ করেছে।
দুই সরকার প্রধান দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েই কথা বলবেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের অগ্রসরতার দিকগুলো তুলে ধরবেন বলেই ধারনা করা হচ্ছে।
ডাউনিং স্ট্রিটে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়ালওয়র্থ একাডেমি যাবেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনিসেফ বাংলাদেশে শিশুদের শিক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা হিসেবে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও কিভাবে জোরদার ও বিস্তার করা যায় সে দিকগুলোই বৈঠকে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
এর পরপরই একই ভেন্যুতে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ডেসমন্ড সোয়াইন টিডির সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তিনি যোগ দেবেন গার্ল সামিটে।
সামিটের ঊচ্চপর্যায়ের সেশনে অংশ নিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন, বিশেষ করে বাল্যবিবাহ রোধে তার সরকারের উদ্যোগ ও অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে বিকেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তারও আগে রয়েছে আরো পৃথক দুটি বৈঠক।
বিকেল ৪টায় তার সঙ্গে হোটেলকক্ষে দেখা করবেন যুক্তরাজ্যের শ্যাডো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার এবং বিকেল ৫টায় রয়েছে অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
উল্লেখ্য, বিশ্বে প্রথমবারের মতো যে গার্ল সামিট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাতে যোগ দিতে তিন দিনের সপরে লন্ডনে যান শেখ হাসিনা। শর্ন ক্লিফ রোডের ওয়ালওয়ার্থ একাডেমিতে আয়োজন করা হয়েছে এ সামিট।