প্রচলিত ব্যবস্থার সংস্কার না হলে বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। বুধবার রাজধানীর রাজারবাগে ডিটেকটিভ ট্রেইনিং স্কুলে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সন্দেহভাজনের স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা অনেক বেশি বল প্রয়োগ করে এবং এতে তারা উৎসাহ পায়। ফলে বিচারকের আর কিছু করার থাকে না আর ক্ষতিগ্রস্ত সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়।
মজিনা বলেন, ‘বর্তমান ব্যবস্থাই হেফাজতে নির্যাতনের সুযোগ করে দিচ্ছে। কেননা সন্দেহভাজনের স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা বেশি ক্ষমতা প্রয়োগ করে উৎসাহ পায়।’
তিনি আরো বলেন, প্রচলিত এ পদ্ধতির পরিবর্তন না হলে বর্তমান বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে বাংলাদেশের জনগণের আস্থা উঠে যাবে। ঘটনার আলামত সংগ্রহ ও তার প্রক্রিয়াকরণ এবং আদালতের সামনে তা বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপনের ওপর জোড় দেন। যাতে কেউ মিথ্যা অভিযোগে শাস্তি না পায় এবং প্রকৃত অপরাধী শাস্তি পায়।
মজিনা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব বহন করে রাষ্ট্র। রাষ্ট্র যদি কার্যকর ন্যায় বিচার দিতে ব্যর্থ হয়, তখন জনগণ আস্থা হারায় এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। এতে বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, যা গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
এ সময় সেমিনারে দেশি-বিদেশি প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।