লন্ডনে গার্ল সামিট শেষে তিন দিনের সরকারি সফর শেষে বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক আন্থনি লেকের আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত গার্ল সামিটে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য সফর করেন শেখ হাসিনা।
গত মঙ্গলবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত গার্ল সামিট-২০১৪তে তিনি ২০ সদস্য বিশিষ্ট ঊচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গী সদস্যদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে।
বাংলাদেশে বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ইউরোপের কোনো দেশে এটি ছিল শেখ হাসিনার প্রথম সফর।
প্রধানমন্ত্রী সামিটের ঊচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেন এবং ওয়ালওর্থ একাডেমিতে বুর্কিনা ফাঁসোর ফাস্ট লেডি চাঁতাল কম্পাওর ও পাকিস্তানের বিশিষ্ট শিশু শিক্ষাকর্মী মালালা ইউসুফ জাইয়ের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
‘ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন (এফজিএম)’ এবং জোরপূর্বক ও বাল্যবিবাহ বন্ধে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদারের লক্ষে যুক্তরাজ্য সরকার ও ইউনিসেফ প্রথমবারের মতো এ সামিটের আয়োজন করে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে দ্বিপাক্ষিক ও পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়।
এছাড়া সর্বদলীয় ব্রিটিশ সংসদীয় দল, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেসমন্ড সোয়েন, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক আন্থনি লেক, যুক্তরাজ্যের ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার, ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান কিথা ভাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেল স্যুটে সাক্ষাৎ করেন।
বিশিষ্ট সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীসহ যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশের কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক হোটেল স্যুটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
শেখ হাসিনা সোমবার সন্ধ্যায় লন্ডন হিলটন হোটেলে আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনায় ভাষণ দেন। তিনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড রেডিও ও বিবিসি বাংলা সার্ভিসকে সাক্ষাতকারও দেন।