ঈদের পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। ঈদের আগে দুই দিন সরকারি ছুটি যোগ হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয় ঈদ যাত্রা। জুমাতুল বিদা ও শবে কদরের কারণে শুক্রবার যাত্রীদের ভিড় খুব বেশি না থাকলেও সে তুলনায় শনিবার কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। তবে ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারছেন তাই স্বস্তি ছিল যাত্রীদের চোখে মুখে।
সড়ক-মহাসড়ক :
শনিবার রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, শুধু ঈদ নয় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে তাদের এ তৎপরতা সবসময় অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলীসহ অন্যান্য বাস টার্মিনালেও ছিল একই চিত্র।
পোশাক শ্রমিকদের ছুটি হয়ে যাওয়ায় অন্যদিনের থেকে যাত্রীর চাপ বেশি বলে জানান বাস সার্ভিসের কর্মীরা। গতবারের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা এখনো কম হলেও ঈদের ২/১ দিন আগে ভিড় বাড়বে বলে ধারনা তাদের।
রেলপথ:
বাস ও লঞ্চের তুলনায় ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় তুলনামূলক কম। সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে যাত্রী সংখ্যা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। তাই কোনো ভোগান্তি ছাড়াই ট্রেনে চড়ে ঢাকা ছাড়তে পারছে মানুষ। যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে এবার ঈদে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস রয়েছে।
শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় ওইদিন ঘরমুখো মানুষের অনেকই রাজধানী ছেড়েছেন। তাই শনিবার রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে ছিল না মানুষের উপচেপড়া ভিড়।
অনেকেই স্টেশনে এসেছেন নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই। যাত্রী সংখ্যা কম হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না ট্রেনে চড়তে। তেমন কোনো অভিযোগ নেই যাত্রীদের।
ঈদ উপলক্ষে ছাড়া ট্রেনের অগ্রীম টিকেট শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। শেষ মূহূর্তের ঘরমুখো মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে আসন বিহীন টিকেটের ব্যবস্থাও রেখেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
নদীপথ:
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। লঞ্চের ডেকে, এমনকি ছাদে চড়েও বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন অনেকে। টিকেটের বাড়তি দাম কিংবা কালোবাজারি নিয়ে তেমন অভিযোগ না থাকলেও ঘন্টার পর ঘন্টা পার হওয়ার পরও লঞ্চ ছাড়ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের। আর এ অভিযোগ স্বীকার না করে বরং যাত্রীদেরকেই উল্টো দোষারোপ করেছেন লঞ্চ মালিকপক্ষ।
ঈদকে সামনে রেখে শনিবার সকাল থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের জনস্রোত। টিকেট কালোবাজারি কিংবা বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ এবার পাওয়া যায়নি। তবে, অনকে বিলম্বে লঞ্চ ছাড়ার অভিযোগ যাত্রীদের।
অভিযোগ কিছুটা স্বীকার করলেও ঘুরে ফিরে যাত্রীদেরই দোষারোপ করলেন বাস মালিক কর্তৃপক্ষ।