কোনো সরকারই আদিবাসীদের অধিকার বাস্তবায়নে আন্তরিক ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন আদিবাসী ফোরামের সভাপতি সন্তু লারমা। মঙ্গলবার রাজধানীতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদায় প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের আঙ্গিকে লড়াই করার ঘোষণা দেন তিনি।
রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের দাবি জানিয়েছে আদিবাসী ফোরাম।
গত ৪৩ বছরে কোনো সরকারই আদিবাসীদের অধিকার বাস্তবায়নে আন্তরিক ছিলো না বলে অভিযোগ করে ফোরামের সভাপতি বলেন, প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের আঙ্গিকে লড়াই করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের সভাপতি সন্তু লারমা বলেন, ভূমি থেকে উচ্ছেদ, অঘোষিত সামরিক শাসন ও ধর্মান্তরিত করার পাশাপাশি আদিবাসীদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্যদিয়ে আদিবাসীদের পাবর্ত্য অঞ্চলসহ সারাদেশের আদিবাসীদের অধিকারকে বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে। তাদের পরিচিতি, তাদের অধিকার পর্যদুস্ত করা হয়েছে। অব্যাহতভাবে পার্বত্য অঞ্চলে সেনাশাসন চলছে। আজকে সমতলে অব্যাহতভাবে আদিবাসীদের জমিজমা কেড়ে নেয়া হচ্ছে, ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তারা কোনো উপায় না দেশে দেশান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছ।’
তিনি আরো বলেন, ‘অধিকার তো কেউ কাউকে দেয় না, তা আর্জন করে নিতে হয়। সংগ্রামী নেতৃত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে সংগ্রামকে আরো এগিয়ে নিতে হবে।’ আদিবাসীদের অধিকার বাস্তবায়নে সর্বাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল বামপন্থি সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান সন্তু লারমা।
বাংলাদেশে চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, উরাও, খাসিয়া,ত্রিপুরা,মুরং, মান্দিসহ অর্ধশতাধিক জাতিসত্ত্বার অস্তিত্ব রয়েছে। দেশের তিন পার্বত্য জেলাসহ উত্তরবঙ্গ ও মধ্যাঞ্চলে ভিন্ন ভাষা,সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে প্রায় ৩০ লাখ আদিবাসী মানুষের বসবাস। সাংবিধানিকভাবে এদেরকে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা, নৃ- গোষ্ঠী ও উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হলেও আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ায় ক্ষুব্ধ আদিবাসীরা।
প্রতিবছর ৯ আগস্ট জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী দিবস বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। এবারও বাংলাদেশে এই দিবসটি পালিত হবে বেসরকারিভাবে। এ উপলক্ষে আদিবাসী ফোরাম এক সংবাদ সম্মেলনে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে উপযাপনের দাবি জানিয়েছেন আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় খরচে মোবাইলে হাত ধোয়া দিবস পালনের ম্যাসেজ দেয়া হয় তাহলে আদিবাসী মানুষের জন্য জাতিসংঘের ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসি দিবস রাষ্ট্র যখন পালন করে না তখন বোঝা যায় আদিবাসী মানুষের প্রান্তিকতা কোন পর্যায়ে।’
পরে দিবসটি উপলক্ষে চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।