রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনের (বিজিএমইএ) ভবনে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩ শতাধিক শ্রমিক মে ও জুন মাসের বেতন পেয়েছেন। রাত ১০টা পর্যন্ত বিজিএমইএ ভবনে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামীকাল পর্যন্ত শ্রমিকরা এ দুই মাসের বেতন নিতে পারবেন।
তবে শ্রমিকদের একটি অংশ বলছে, ৩ মাসের বেতন না দেয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন।
বিকেলে শ্রমিকদের খোঁজ নিতে মানবাধিকার কর্মী খুশী কবীর তোবা গার্মেন্টেসে আসেন। এ সময় পুলিশি বাঁধার মুখে ঢুকতে পারেননি তিনি।
এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো ধরনের অপ্রিতীকর ঘটনা এড়াতেই বহিরাগতদের বের করা হয়েছে।
এদিকে, তোবা গ্রুপের অনশনরত শ্রমিকদের মে ও জুন মাসের বেতন একসঙ্গে বিজিএমইএ ভবন থেকে নেয়ার কথা থাকলেও প্রথমদিকে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন বেতন নিতে যান। পরে দিন শেষে বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও ঈদ বোনাস নিতে পোশাক শ্রমিকরা বেতন নিতে বিজিএমইএ ভবনে যান।
এর আগে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার হোসেন মার্কেটের তালাবদ্ধ প্রধান ফটক আজ বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে খুলে দেয়া হয়েছে। সেখানে শ্রমিকদের অনশনে বহিরাগত লোকজন আছে দাবি করে তাদের বের করে দিতে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেছে পুলিশ।
ওই মার্কেটে অবস্থিত তোবা গ্রুপের কারখানায় প্রায় এক হাজার পোশাকশ্রমিক অনশন করছেন।
মজুরি নিতে শ্রমিকেরা যাতে বিজিএমইএ ভবনে যেতে পারে এ জন্য প্রধান ফটকের তালা ভাঙা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন শ্রমিকনেতা ও চিকিত্সাকর্মীকে কারখানা থেকে বের করে দিয়েছে।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সংগঠক মঞ্জুর মইন বলেন, পুলিশ তাকে জোর করে কারখানার ভেতর থেকে বের করে দিয়েছে। পুলিশ তাকে বলেছে, তিনি বহিরাগত। তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কারখানার ভেতরে থাকতে পারবেন না।
একইভাবে অনশনস্থলে থাকা চিকিত্সা দলের সদস্য বিধান বিশ্বাসকেও বের করে দিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের দুই মাসের মজুরি সকাল ৯টায় নিজেদের কার্যালয় থেকে দেয়ার কথা জানিয়েছে পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
অনশনরত শ্রমিকদের একটি অংশ বলছে, তারা মজুরি আনতে যাবে। অন্য অংশ বলছে, তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
এর আগে রাজধানীর বাড্ডার হোসেন মার্কেটের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার কারণে বিজেএমই ভবনে তোবা গার্মেন্টের শ্রমিকরা আসতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন গার্মেন্ট শ্রমিকরা। এর ফলে কারখানার ভেতর প্রায় এক হাজারের মতো শ্রমিক আটকা পড়েছে।
এ সময় কারখানার বাইরে সমাবেত হয়ে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে শ্রমিকরা। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বাম রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
শ্রমিকরা অভিযোগ করে, সকাল থেকে তাদের কারখানার ভেতরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে মালিকপক্ষ।
এদিকে, বেতন-ভাতার দাবিতে দশম দিনের মতো অনশন করছেন তোবা গ্রুপের পোশাক কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিক। দীর্ঘ সময় ধরে অনশনের কারণে অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গুরতর অসুস্থ এক শ্রমিককে হাসপাতালে নেয়া হয়।