ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি গণহত্যায় বিশ্ব বিবেকের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এক্ষেত্রে নীরব কেন? বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
ফিলিস্তিনে এ বর্বর হামলার প্রতিবাদ জানাতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে (বাংলাদেশে) একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে কতোজনের চিঠি আসে, প্রতিবাদ দেখা যায় এবং আরো কতো কিছূ শোনা যায়। এখন শত শত শিশুদের গুলি করে মারা হচ্ছে, নারীদের মারা হচ্ছে, অন্তসত্ত্বা নারীদের মারা হচ্ছে। এখন তাদেরকে (বিশ্ববাসী) বিবেক নাড়া দেয় না কেন? নিজেদেরকে সভ্য বলে মনে করে তারা কেন চুপচাপ? আমাদের দেশে কতো মানবাধীকার সংগঠনগুলো কিছু একটা হলে এখানে-ওখানে যাচ্ছে, এখন কেন তাদের কণ্ঠ নিরব?’
ইসরারেলে গণহত্যার বিরুদ্ধে সরব হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন নারী সংগঠনগুলো এখানে উপস্থিত রয়েছে, তাই আমি আপনাদের আহ্বান জানাবো, যে আপনারাও প্রতিবাদ জানান। কারণ মনে রাখবেন একটা ঘটনা কোথাও ঘটলে আমরাও যে রেহাই পাবো, তা না। আমরাও কিন্তু রেহাই পাইনি। আমাদের ১৯৭১ এর অভিজ্ঞতা রয়েছে, ১৯৭৫ সালের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০১ সালের বিএনপি-জামাত জোটের অভিজ্ঞতাও আমাদের রয়েছে। কাজেই এ ধরনের নির্যাতন যেখানেই চলবে সেখানেই বাংলার মেয়েরা ও মায়েরা প্রতিবাদ করবে, সেটাই আমি চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘কখনো তিনি (শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) ভোগ-বিলাসে নিজের জীবন অতিবাহিত করেননি। সব সময় বলতেন আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই আমাদের সেভাবেই চলতে হবে। কারণ এটা আমার বাবা (শেখ মুজিব) এরও শিক্ষা ছিল। সব সময় নিচের দিকে তাকাবে, উপরের দিকে নয়। নিচের দিকে তাকিয়ে চলবে, নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটবে তাহলে হোঁচট খাবে না।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালির মুক্তির আন্দোলনে পর্দার অন্তরালে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ভূমিকার স্মৃতিচারণ করেন।