শোকের দিনে যারা উৎসব করে তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে যেই কর্মসূচি দেবে আওয়ামী লীগ সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তারা। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুনন্নেসার ৮৪তম জন্মবির্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ভিন্ন ভিন্ন আনুষ্ঠানে তারা এ সব কথা বলেন।
ঈদের পর বিএনপির আন্দোলনের হুমকি নিয়ে আওয়ামী লীগ চিন্তিত নয় বলেও এসময় মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
ধানমন্ডিতে ফজিলাতুন্নেসার জন্মদিন উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবকলীগের আলোচনা সভায় দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেন, শোকের দিনে কৃত্রিম জন্মদিন পালন করলে বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর একটা দিন বিতর্কিত একটা দিবস পালন করে আনন্দ উৎসবের যে পরিবেশ একটা বড় দর সৃষ্টি করে তাদের সঙ্গে সংলাপ, তাদের সঙ্গে সমঝোতা, তাদের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক কী করে থাকে? ’
এদিকে, রাজধানীতে যুবলীগের অপর এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ঈদের পর জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের বিরুদ্ধে এখন বিএনপিরই বেশিরভাগ নেতা।
তিনি আরো বলেন, ‘আপনার (খালেদা জিয়া) দলের ১২টা আপনি নিজে বাজিয়েছেন। আন্দোলন আপনি করবেন লাভ কিছুই হবে না। আন্দলোন কেউ চায় না, এমনকি আপনার দলের নেতারাও আন্দোলন করতে চায় না।’
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিশ্রম নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ না করার জন্য যুবলীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুনন্নেসার জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার সকালে বনানীতে তার কবরে শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এসময় বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন তারা।
এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ফজিলাতুন্নেসা মুজিব।
বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, ঈদের পর তাদের আন্দোলনের হুমকি রাজপথে নয়, গণমাধ্যমকেন্দ্রিক।
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির এখন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি শুধুমাত্র গণমাধ্যম নির্ভর। এটা টিভির পর্দায় এবং সংবাদপত্রের খবর বানানোর জন্যই। কাজেই এটা নিয়ে কথা বলা বা ভাবনার কিছু নেই। বেগম খালেদা জিয়া কার সঙ্গে বৈঠক করবেন, কী করবেন সেটা সময় হলে দেখা যাবে, তখন কথা বলা যাবে।’