তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিতে শনিবার বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারি ফেডারেশনের ডাকা দেশব্যাপী পোশাক শ্রমিক ধর্মঘটে পোশাক শিল্পে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি এলাকার পোশাক কারখানায় ধর্মঘট কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। এসব এলাকার কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে।
গাজীপুর সদর উপজেলার ভোগড়া, বাসন সড়ক, রাজেন্দ্রপুর, শ্রীপুরের মাওনা, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক, শফিপুর, চন্দ্রা, গাজীপুর সদরের চান্দনা চৌরাস্তা, লক্ষ্মীপুরা, টঙ্গী ও কোনাবাড়ীর ২টি বিসিক এলাকাসহ আশপাশের সব এলাকার পোশাক কারখানায় স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে। পরিস্থিত স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এদিকে, সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া, পলাশবাড়ি, নিশ্চিন্তপুর, ইউনিক এলাকা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও ফতুল্লার পোশাক কারখানাগুলোতেও ধর্মঘট পালনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। শ্রমিকদের মধ্যে অন্যান্য দিনের মতই কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।
অনাকাঙ্খিত পরিস্থিত এড়াতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রোববার জুলাই মাসের বকেয়া বেতন দেয়ার কথা তোবা কর্তৃপক্ষের। গত বৃহস্পতিবার তোবার মালিক দেলোয়ার হোসেনকে এমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক।
তবে এ বিষয়ে তোবা গ্রুপের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো জবাব মেলেনি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মোশরেফা মিশু দেশের সব পোশাক কারখানায় শনিবার ধর্মঘটের ডাক দেন। তোবার শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ, দেলোয়ার হোসেনের জামিন বাতিল, শ্রমিকদের ওপর ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে এ কর্মসূচি ডাকা হয়।
তবে ওই দিনই নৌপরিবহনমন্ত্রী ও গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক শাজাহান খান বলেন, ধর্মঘটের সঙ্গে সমন্বয় পরিষদ নেই। এ সমন্বয় পরিষদের অধীনে আছে ৫২টি শ্রমিক সংগঠন।
গতকাল শুক্রবার ধর্মঘটের সমর্থনে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের লাঠিপেটায় কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী আহত হন।