সাংবাদিকদের ‘গালাগালি’ ও ‘হুমকি’ ধামকি দিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
রোববার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আলতাফ মাহমুদ এবং কুদ্দুস আফ্রাদসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, যশোর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ এবং কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
এরআগে এই মন্ত্রী শিশুদের সামনে প্রকাশ্যে ধূমপান করে সমালোচিত হন। আবারো গত শনিবার সমাজকল্যাণমন্ত্রী সিলেটে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলেন, সতর্ক হয়ে যান, বউ নিয়ে ঘরে ঘুমাতে পারবেন না।
অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদকর্মীদের ‘খবিস’ বলেও গালি দিতে ছাড়েননি।
সকালে বিএফইউজের মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়ার সই করা এক বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৈয়দ মহসিন আলী ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।
সৈয়দ মহসিন আলীর উচ্চারিত শব্দাবলী, বক্তব্য এবং তার দেহের ভাষায় যার প্রকাশ ঘটেছে তা তার নিজস্ব শিক্ষা, রুচি, রাজনীতি ও পারিবারিক সংস্কৃতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, একজন মন্ত্রীর এই ধরনের ‘নিচু স্তরের’ মানসিকতা এবং তার প্রকাশ সরকার ও গোটা মন্ত্রিসভার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।
বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, সৈয়দ মহসিন আলী তার বক্তব্যের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই যে তাকে এবং অপর এক মন্ত্রীকে ‘চালিয়ে যেতে বলেছেন’- তা বলার মাধ্যমে তার সাংবাদিক ও গণমাধ্যমবিরোধী অরুচিকর ও অশালীন আচরণের সঙ্গে প্রধামন্ত্রীর নামটি জড়িয়ে ফেলছেন। এটি আমাদের সবার জন্যই বিব্রতকর।
মহসিন আলী যাতে সাংবাদিকদের কাছে দ্রুত ক্ষমা প্রার্থনা করে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেন- সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
একই সঙ্গে মহসিন আলীকে কথা, আচরণ, শব্দপ্রয়োগ ও ব্যবহারে আরো সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পরপরই সিলেটে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে শিশুদের সামনে মহসিন আলীর ধূমপান করার ছবি প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন।