গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ নয়, এটি করা হয়েছে কল্যাণের জন্য— জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার গেজেট প্রকাশের পর চারপাশে সমালোচনার মুখে সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
এ বিষয়টি নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে বিরূপ সমালোচনার পর সরকারের ব্যাখ্যা নিয়ে গণমাধ্যমে সামনে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা দিক নির্দেশনামূলক—এটি কোনো আইন নয়, এতে শাস্তির কোনো বিধানও নেই। তাই কণ্ঠরোধের বিষয়টি সম্পূর্ণ অমূলক ও কল্পনাপ্রসূত
সংবাদ সম্মেলনে ইনু বলেন, সম্প্রচার মাধ্যমের ‘স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা’ প্রতিষ্ঠা করে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এ নীতিমালা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিটি ধারাই গণমাধ্যমের জন্য কল্যাণকর ও সম্প্রসারে সহায়ক।
আগামী ৪/৫ মাসের মধ্যেই সম্প্রচার কমিশন গঠন করা হবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।
সশস্ত্র বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় অথবা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ায় এ বিষয় প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে টেলিভিশন ও রেডিওর জন্য গত ৪ আগস্ট সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
প্রসঙ্গ: গত ৮ আগস্ট এ নীতিমালার গেজেট প্রকাশ করে তথ্য মন্ত্রণালয়। নিয়মানুযায়ী ওই দিন থেকেই নীতিমালাটি কার্যকর হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী স্বাধীন জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠনের আগ পর্যন্ত এ নীতিমালা বাস্তবায়নে কর্তৃত্ব থাকবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের।
বিএনপি এ নীতিমালাকে ‘সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ ও দলনের নীতিমালা’আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবি জানায়।
সাংবাদিকদের একটি অংশ এই নীতিমালা বাতিলের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও করেছে।
নীতিমালার যেসব বিষয় নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়গুলো তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে তার ব্যাখ্যা দেন তথ্যমন্ত্রী।