দেশে সড়ক দুর্ঘটনার ৯৭ শতাংশই ঘটে ২০৮টি পয়েন্ট বা ব্ল্যাক স্পটের ৫৭ কিলোমিটারের মধ্যে। যাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপির ১.২%। সামাজিক সংগঠন পিপিআরসি ও ব্র্যাকের এক যৌথ সমীক্ষায় উঠে এসেছে এসব তথ্য।
বুধবার সকালে রাজধানীতে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, এসব ব্ল্যাক স্পটে ঠিকমত নজর দিতে পারলে দুর্ঘটনার হার অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।
যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও ভোটের রাজনীতির কারণে সড়ক-মহাসড়কের অনেক সংস্কারই করা সম্ভব হয় না।
একটি দুর্ঘটনা, নিরাপরাধ মানুষের প্রাণহানি এবং বিপুল পরিমাণে আর্থিক ক্ষতি।
দুঘটনার কারণে জানমালের এসব ক্ষতির যেন কোনো প্রতিকার নেই। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে নিহতের সংখ্যার তালিকা বাড়ছে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও।
সরকারি হিসেবে দেশে প্রতিদিন গড়ে আট জন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বিশ্বব্যাংকের হিসেবে এ সংখ্যা ৩০ আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ৪৮জন। আহতদের অংকও অনেক বড়।
সরকারি হিসেবে ২০১১-১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটেছে ৩১৩২ জনের, আর ২০১৩-১৪তে সাত হাজারের উপরে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছোট ছোট কিছু উদ্যোগ নিলে মানুষের এ অকাল মৃত্যু অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।
পিপিআরসি ও ব্র্যাকের যৌথ সমীক্ষায় দেখা গেছে মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪১% ঘটে থাকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায়, ২৪% রাস্তার পাশে গড়ে উঠা বাজার ও দোকান-পাটের কারণে আর রাস্তার সংযোগ স্থলে ঘঠে প্রায় ১৮% দুর্ঘটনা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এর পাশাপাশি বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতিসহ মোট ৯টি কারণে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন অনেক রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ব্ল্যাক স্পটের উপর নজর দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আইনের বাস্তবায়নের মধ্যদিয়েই কেবল দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।