দেশে জঙ্গিবাদের অর্থের উৎস বন্ধে ইসলামী ব্যাংকসহ প্রতিটি ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর ওপর নজরদারী বাড়ানো হচ্ছে –জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার’ কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ ওঠায় গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। জামাতের নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের অধিকাংশই ব্যাংকটির মালিকানা কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কিছু ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে দেয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের কিছু অ্যাকাউন্টধারী জাতিসংঘের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। ব্যাংকটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়ে গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির জবাবে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তবে ইসলামী ব্যাংক ইতোমধ্যে তাদের লভ্যাংশ ব্যয়ের একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনে কোনো রকমের ফাঁকি আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করতে গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ সংক্রান্ত সভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এমনটাই জানিয়েছেন।
ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনাকারী আরো কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও নজরদারি চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে জঙ্গিতৎপরতার বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।