রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের চেয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিফলিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন ম্যাকাইয়াসের পরিচালক শ্রীরাধা দত্ত। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সম্পর্ক জোরদারে প্রতিবেশী দেশদুটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাবনা শিরোনামে সেমিনারে ভারতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ইন্সটিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজের একটি প্রতিনিধিদল এবং দেশের সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার আগ্রহ তুলে ধরে ভারতের প্রতিনিধি দল। দু'দেশেরই পররাষ্ট্রনীতিতেই দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের বিষয়গুলো প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। একটি সমাধানমূলক চুক্তির ওপর জোর দেন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ‘ভারত তিস্তার পানি প্রবাহকে বন্ধ করেনি। যদি তা করতো তাহলে দু’দেশের জন্যই ভালো হতো না। এ ইস্যুতে সরকারের নির্ধারিত কাঠামো থাকা সত্বেও আমরা আলোচনায় বসিনি। এখন আমাদের সময় এসেছে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার।’
সীমান্ত সমস্যা ও তিস্তার পানি চুক্তির ব্যাপারে ভারতের কাছ থেকে আরো বন্ধুসুলভ আচরণের প্রত্যাশা তুলে ধরেন বাংলাদেশের বক্তারা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জগলুল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ট্রান্জিট এবং সাংস্কৃতিক আদান প্রদানের বিষয়গুলোসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আরো আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে। দু’দেশের মধ্যকার সহযোগীতামূলক মনোভাব এ বিষটিকে আরো তরাণ্বিত করতে পারে।’
বিরোধপূর্ণ ইস্যুগুলো সমাধানে উভয়ের আন্তরিক হওয়ার কথাও বলেন বক্তারা।