বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় ‘হাওয়া ভবন’ থেকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নির্দেশনা এসেছিল। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হামলাকারীদের পালিয়ে যেতেও সহায়তা করা হয়েছিল। আর হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড পাকিস্তান থেকে এনে তা সরবরাহের কাজে যুক্ত ছিলেন বিএনপির উপমন্ত্রী, জামাত ও হরকাতুল জিহাদের নেতারা। দেশ টিভিকে দেয়া রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর একান্ত সাক্ষাতকারে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এসব তথ্যের পক্ষে ইতোমধ্যে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, এ মামলা নিষ্পত্তি করতে আরো ১ বছর সময় লাগবে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুই টি মামলা হয় এবং তদন্তও হয় দুই দফায়। বিএনপি-জামাত সরকার মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করে ‘জজ মিয়া’ নাটকও সাজায়। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলার তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়।
হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে প্রথম দফা চার্জশিট দেয় সিআইডি। পরে আবার বর্তমান সরকার ক্ষমতায় গিয়ে হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেডের উৎস সন্ধানের জন্য অধিকতর তদন্ত করে।
এরইমধ্যে মামলাটির বিচার কাজ চলছে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। শেষ হয়েছে ৯৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, এ গ্রেনেড হামলায় বিএনপি-জামাত জোট সরকার যে সরাসরি যুক্ত ছিল এমন সাক্ষ্য দিয়েছেন অনেকেই।
তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে এ আর্জেজ গ্রেনেড এসেছে। আব্দুল মাজিদ এবং আব্দুস সালাম পিন্টু সাহেব তৎকালীন চারদলীয় জোটের প্রতিমন্ত্রী। উনি এবং ওনার ভাই মওলানা তাজুদ্দিন এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন এ আর্জেজ গ্রেনেড সরবরাহ করে। সম্পূর্ণ অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে এবং পরবর্তীতে আদালতের সামনে সাক্ষীরা এ সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছেন। তৎকালীন ডিজি সাদেক হোসেন রুমি সাহেব বলেন, তাকে সমর্থন দিয়ে আরো ২/৩ জন এ সম্পর্কে সমর্থন জুগিয়েছেন সাক্ষীদের মধ্যে।’
কোনো কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য দেয়ার ব্যাপারে কিছুটা অনীহা রয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি।
সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘সরকারের পনের-বিশটা ও একশোটা-এক হাজারটার মামলা যেভাবে চলে এটাও সেভাবে চলবে। সাক্ষীদের মধ্যে ২/১ জনের একটু অনিহা আছে।’
তিনি বলেন, শিগগিরই ভিআইপি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে এবং আগামী আগস্টের আগেই শেষ হবে মামলার বিচার কাজ।
সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘এ মামলার এখন যে বিচারের গতি পেয়েছে সে গতি যদি অব্যাহত থাকে আগামী আগস্টের মধ্যে আমরা বিচার এবং নিষ্পত্তির দিক দিয়ে একটা ভালো ফলাফল পেয়ে যাবো।’
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩ জুলাই তদন্ত শেষে সিআইডি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামাত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, এনএসআই ও ডিজিএফআই মহাপরিচালক, সাবেক ৩ আইজিপিও এ মামলায় যুক্ত হয়।
এ মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৩০ জনকে নতুন করে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেয়। এ মামলার মোট আসামি ৫২ জন। সাক্ষী হন ৪১২ জন।