হাইকোর্ট মসজিদের খতিব, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও চ্যানেল আই-তে কাফেলা অনুষ্ঠানের উপস্থাপক শাইখ কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকীকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাসায় পৈশাচিকভাবে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করেছে দুস্কৃতকারিরা। এ মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও শোক জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বর্তমান অবৈধ সরকারের আমলে দেশের মানুষ আর নিরাপদ নয়। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং ক্ষমতাসীনদের হিংসাত্মক কার্যকলাপের কারণে বৃদ্ধি পাওয়া অপহরণ আর লাশের মিছিলের ভয়াবহ বাস্তবতায় দেশের আপামর জনসাধারণ সবসময় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
গতরাতে দুস্কৃতকারিদের কর্তৃক দেশের বিশিষ্ট আলেম শাইখ কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যার মধ্যদিয়ে আরেকবার প্রমাণ হলো যে, এই দেশে খুনের রাজত্ব কায়েম হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘দেশবাসী এমন একটা নৈরাজ্যকর থমথমে পরিবেশে বসবাস করছে যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে একজন দ্বীন আলেমকেও দুস্কৃতকারিদের হাতে জীবন হারাতে হয়। অবৈধ সরকারের সৃষ্ট কুশাসনের করাল গ্রাস থেকে কেবল দেশের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীই নয় দেশের সম্মানিত বিশিষ্টজনরাও রেহাই পাচ্ছেন না। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা আছে বলেই গুম, খুন ও অপহরণকারীরা ঘটনা ঘটিয়ে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।’
‘মাওলানা শাইখ কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকীকে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের বিরাজমান খুনোখুনি ও রক্তারক্তির বিভৎস চিত্রটিই ফুটে উঠেছে। সারাদেশে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রশ্রয় দিচ্ছে সন্ত্রাসি গডফাদার ও দুস্কৃতকারিদের যাতে অরাজক ও ভীতিকর পরিস্থিতি বিদ্যমান রেখে অবৈধভাবে দখল করা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায়। কারণ অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে নৈরাজ্য ও দু:শাসনের বিকল্প নেই। এই অবৈধ ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে জনগণ নেই। তাই অনাচার ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে সমাজবিরোধী সন্ত্রাসিরাই এখন তাদের সবচেয়ে বেশি ভরসার স্থল। আর এইজন্য আশকারা পেয়ে সন্ত্রাসিরা বেপরোয়া হওয়ার সাহস পাচ্ছে’ বলে জানান তিনি।
খালেদা জিয়া আরো বলেন, ‘এইভাবে হত্যালীলা চালিয়ে দেশব্যাপি রক্তপাত ঘটানোর জন্য সরকারকে একদিন চরম ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।‘
বিএনপি চেয়ারপারসন অবিলম্বে শাইখ কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যাকারিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। তিনি দুস্কৃতকারীদের হাতে নিহত কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের সদস্যবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।
আরেক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতরাতে মাওলানা শাইখ কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে চরম নির্মমতা অ্যাখ্যা দিয়ে বলেন, গোটা দেশটা এখন নরকের জনপদ। অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকা হুমকির মুখে।
বিবৃতিতে বিএনপির এ নেতা বলেন, বর্তমান স্বৈরশাসকদের শাসনামল বিশ্বের ইতিহাসে সাদা পোশাক পরা কালো শাসনের অধ্যায় বলে পরিচিত হবে। এ মূহূর্তে আওয়ামী নির্যাতন নিপীড়ণ ও দুঃশাসনের কবল থেকে দেশকে উদ্ধার করতে না পারলে দেশের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিহত মাওলানা শাইখ কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যাকারী দুস্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।