দেশে গুম, হত্যার পরিবেশ বিরাজ করছে— তাই এখনো এসব ঘটনা থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
আর সমাজের বিশিষ্টজনেরা অভিযোগ করেন রাষ্ট্রের মদদ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়।
সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, সুষ্ঠু বিচার না হলে এসব ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব নয়।
শিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, প্রতিটি গুমের বিচার হতেই হবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরবেন না। বিচার এ দেশে না হলে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে যাবেন।
সরকারের উদ্দেশে শাহদীন মালিক আরো বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতায় এসে ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে আছেন, এই বিচার এ দেশে না হলে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাব।’
ভুক্তভুগীদের পরিবার এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করেন।
তারা বলেন, স্বাধীন দেশে যদি স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি না পাওয়া যায় তবে এ স্বাধীনতার কোনো মূল্য নেই। আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।
বক্তারা বলেন, দেশে গুম-খুনের বিচার না হলে আন্তর্জাতিক আদালতে এসব ঘটনার বিচার চাওয়া হবে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে উঠে আসে এসব কথা।
সংবাদ সম্মেলনে আপনজনের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। কারো বাবা, কারো ভাই বা কারো ছেলের নেই কোনো খোঁজ। মারা গেছেন না বেঁচে আছে কিছুই জানেন না তারা। শুধুই যন্ত্রণাদগ্ধ প্রতীক্ষা তাদের জন্য।
গত পাঁচ বছরে র্যা ব-পুলিশ পরিচয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষ গুম, হত্যার ঘটনা বেড়েছে ব্যাপকহারে।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসকের হিসাব অনুযায়ী ২০১০ সালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হন ৪৪ জন এদের মধ্যে খোঁজ পাওয়া গেছে ১৩ জনের নিখোঁজ আছেন ৩১ জন। ২০১১ সালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হন ৫৯ জন
এদের মধ্যে খোঁজ পাওয়া গেছে ২০ জনের, নিখোঁজ ৩৯ জন। ২০১২ সালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হন ৫৬ জন, এদের মধ্যে খোঁজ পাওয়া গেছে ৪ জনের নিখোঁজ আছেন ৫২ জন।
২০১৩ সালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হন ৫৮ জন, চলতি বছর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হন ৭৪ জন এদের মধ্যে খোঁজ পাওয়া গেছে ৩১ জনের আর নিখোঁজ ৪৩ জন।
রাষ্ট্রের দুর্বলতার কারণে আজ এসব ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ এসব ঘটনা শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যদের। হারানো স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুল আবেদন তাদের।
একই দিনে একই সময়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সাত জনকে। ঘটনাটি ঘটেছিল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। স্বজনদের দাবি, এদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল র্যা ব। একই দিনে ছবি হওয়া এই সাতজন হলেন: সাজেদুল ইসলাম সুমন, আবদুল কাদের ভূইয়া, মাসুম, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আসাদুজ্জামান রানা, এ এম আদনান, জাহিদুল করিম তানভীর।
জাতিসংঘ ২০০২ থেকে কাজ শুরু করে ২০০৬ সালের মাঝামাঝি গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ রচনা করে। ইংরেজিতে নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রোটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিস-অ্যাপিয়ারেন্স’।
২০১০ সালের ডিসেম্বরে এই আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয় তাতে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।